ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি গতকাল ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন। তবে প্রিয় তারকা নেইমার এর নাম সেখানে রাখা হয়নি। আনচেলত্তি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, নেইমারকে ডাক দেয়া হয়নি কারণ তিনি এখনও শতভাগ ফিট নন।
কার্লো আনচেলত্তি জানিয়েছেন, নেইমারের বিশ্বকাপে খেলার দ্বার বন্ধ হয়নি। “নেইমার হান্ড্রেড পার্সেন্ট ফিট থাকলে বিশ্বকাপে খেলতে পারবে। সে শতভাগ ফিট না থাকায় তাকে ডাকা হয়নি। তাকে অনুশীলন করতে হবে, খেলতে হবে,” তিনি বলেন।
নেইমারের হাতে এখন ৬২ দিন সময় আছে। এই সময়ে নেইমার সম্ভাব্য ১৬টি ম্যাচ খেলবেন সান্তোসের হয়ে। প্রতিটি ম্যাচেই তাকে নিজের ফিটনেস ও প্রস্তুতি প্রমাণ করতে হবে, না হলে বিশ্বকাপের ট্রেন হাতছাড়া হতে পারে।
বিশ্বকাপের আগে প্রীতি ম্যাচ ও চূড়ান্ত স্কোয়াড
ব্রাজিল আগামী ১১ জুন শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করবে। তার আগে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে তারা।
২৬ মার্চ রাতে ফ্রান্স এর বিপক্ষে
১ এপ্রিল ভোরে ক্রোয়েশিয়া এর বিপক্ষে
এ দুটি ম্যাচই বিশ্বকাপের আগে শেষ সুযোগ। আনচেলত্তি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, নেইমারের স্কোয়াডে না থাকা এই সময়ে ভক্তদের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ।
নেইমার ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে সর্বশেষ ব্রাজিলের হয়ে খেলেছেন। চোট এবং ফিটনেস সমস্যা থাকার কারণে তার আন্তর্জাতিক দলে ফেরার পথ বাঁধাপূর্ণ। গত নভেম্বরে স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়, তখনও নেইমার ডাক পাননি।
নেইমারের অনুশীলন ও চ্যালেঞ্জ
নেইমারের ফিটনেস নিয়ে দুশ্চিন্তার বিষয়টি আরও বেড়ে গেছে, কারণ স্কোয়াড ঘোষণা আগে ১১ মার্চ সান্তোস-মিরাসাল ম্যাচে কোচ আনচেলত্তি নিজে গ্যালারিতে গিয়েছিলেন নেইমারের পারফরম্যান্স দেখার জন্য। কিন্তু ‘ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট’ এর অজুহাতে নেইমার ম্যাচ খেলেননি। এ নিয়ে সমালোচকরা বলছেন, নেইমারের অনুপস্থিতির কারণ তাঁর বোনের জন্মদিন উদযাপন, যা তিনি ১১ মৌসুম ধরে নিয়মিত পালন করছেন।
তবু আনচেলত্তি আশা ছাড়ছেন না। তিনি বলেছেন, “১৮ মে এমন এক খেলোয়াড়কে ডাকতে পারি যে শতভাগ ফিট নয়। কারণ, আমরা বিশ্বাস করি বিশ্বকাপে সে শতভাগ ফিট হয়ে উঠবে।” আনচেলত্তি যুক্তি দিয়েছেন, বিশ্বকাপ ৪০ দিনের টুর্নামেন্ট, যেখানে ফিট হয়ে উঠার সময় আন্তর্জাতিক বিরতির চেয়ে বেশি।
নেইমারের প্রতিক্রিয়া
নেইমার নিজে অবশ্য প্রীতি ম্যাচের স্কোয়াডে না থাকা মানতে পারছেন না। সাও পাওলোয় অপেশাদার কিংস লিগে খেলার সময় স্কোয়াডে না থাকার খবর শুনে তিনি বলেছেন, “ডাক না পেয়ে অবশ্যই মন খারাপ এবং হতাশ। কিন্তু মনোযোগটা আছে…এখনও চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা বাকি। তাই স্বপ্নও টিকে আছে।”
ব্রাজিলিয়ান লিগ ও কোপা সুদামেরিকানার ম্যাচে নেইমারের চ্যালেঞ্জ
নেইমারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে এই সুযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্রাজিলিয়ান লিগে ১০ ম্যাচ, কোপা ব্রাজিলে ২ ম্যাচ এবং কোপা সুদামেরিকানায় ৪ ম্যাচে তার ফিটনেস প্রমাণ করতে হবে। এই পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করবে ৩৪ বছর বয়সী তারকার বিশ্বকাপের স্কোয়াডে জায়গা নিশ্চিত হওয়া।
যদি এই সময়ের মধ্যে নেইমার শতভাগ ফিটনেস প্রদর্শন করতে পারেন, তবে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ও সফলভাবে শেষ হওয়ার সম্ভাবনা আছে। অন্যথায়, বিশ্বকাপের ট্রেন হাতছাড়া হতে পারে এবং তার দলে ফেরার স্বপ্ন ঝুলে থাকবে অনিশ্চয়তায়।







