ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের উত্তেজনার মাঝে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে যখন হাহাকার, তখন কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। কাগজে-কলমে এই জলপথটি অবরুদ্ধ মনে হলেও, বাস্তবে ইরান এখান দিয়ে বেছে বেছে কিছু জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে বলে জানা গেছে।
সামুদ্রিক তথ্য বিশ্লেষণকারী সংস্থা ‘লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্স’-এর মতে, ইরান একটি বিশেষ ‘সেফ করিডোর’ বা নিরাপদ পথ তৈরি করে নিজেদের তেল রপ্তানি সচল রেখেছে। একই সঙ্গে চীন, ভারত ও পাকিস্তানের মতো বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর জাহাজকেও এই পথ ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে তেহরান। গত ১৫ দিনে অন্তত ৯০টি জাহাজ এই সংকীর্ণ জলপথটি সফলভাবে অতিক্রম করেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান এই জলপথটিকে সম্পূর্ণ বন্ধ না করে ‘নির্বাচিতভাবে’ খোলা রেখেছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ইরান তার ‘ডার্ক ফ্লিট’ বা ছদ্মবেশী ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে গত দুই সপ্তাহে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল রপ্তানি করেছে, যার বড় অংশই গেছে চীনে। এমনকি অনেক জাহাজ নিজেদের ‘চীনা মালিকানাধীন’ বলে ঘোষণা দিয়ে আক্রমণ এড়িয়ে পার হচ্ছে।
সম্প্রতি পাকিস্তানের পতাকাবাহী ট্যাঙ্কার ‘এমটি করাচি’ এবং ভারতের দুটি এলপিজিবাহী জাহাজ ‘শিভালিক’ ও ‘নন্দা দেবী’ এই প্রণালী অতিক্রম করেছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, তেহরানের সাথে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই এই জাহাজগুলো পার হতে পেরেছে। তবে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের মিত্রদের জন্য ‘এক লিটার তেলও’ এই পথ দিয়ে যেতে দেওয়া হবে না।

এদিকে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিত্র দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। তবে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, বিশ্ববাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে যুক্তরাষ্ট্র আপাতত ইরানি তেলের অবকাঠামোতে সরাসরি হামলা চালাচ্ছে না। ট্রাম্প প্রশাসন কেবল খারাগ দ্বীপের সামরিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালিয়েছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী এখন ইরানের একটি কৌশলগত অস্ত্রে পরিণত হয়েছে। তেলের দাম যুদ্ধের শুরুর তুলনায় ইতিমধ্যে ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরান যদি জ্বালানির দাম আরও বাড়িয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করতে চায়, তবে জাহাজ চলাচলের এই সংখ্যা আরও কমিয়ে আনতে পারে, যা সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস তুলবে।







