‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এর ৬১তম ধাপে ইসরাইলের রাজধানী তেল আবিবে ১০০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। বুধবার (১৮ মার্চ) চালানো এই হামলার পর তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
তেহরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম পার্সটুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা উচ্চ পরিষদের সচিব ড. আলী লারিজানি হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে। আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানায়, মাল্টি-ওয়ারহেড বিশিষ্ট ‘খোররামশাহর-৪’ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ইমাদ ও খাইবার শেকান ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে অধিকৃত ভূখণ্ডের কেন্দ্রস্থলে থাকা সামরিক ও নিরাপত্তা লক্ষ্যবস্তুগুলোতে আঘাত হানা হয়েছে।
আইআরজিসি দাবি করেছে, ইসরাইলের বহুস্তরীয় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়ায় এই অভিযানে বড় ধরনের সফলতা এসেছে। হামলার পর তেল আবিবের একাংশে বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইসরাইলি বাহিনীকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এই অভিযানে এখন পর্যন্ত ২৩০ জনের বেশি ইসরাইলি নিহত বা আহত হয়েছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি।

তেল আবিব ছাড়াও আল-কুদস (জেরুজালেম), হাইফা, বীরশেবা এবং নেগেভ মরুভূমির গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
আইআরজিসির অ্যারোস্পেস বাহিনীর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ মুসাভি জানিয়েছেন, প্রতিশোধমূলক এই অভিযান আরও জোরদার করা হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আজ রাতে শত্রুর আকাশ আরও বড় রণক্ষেত্রে পরিণত হবে। জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে শত্রুদের বিরুদ্ধে আরও শক্ত আঘাত হানার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং ইরানের পরিকল্পনা রুখে দেওয়ার ক্ষমতা কারও নেই।
বর্তমান সংঘাতের শুরু থেকে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা সাইয়্যেদ আলী খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা শহীদ হয়েছেন। এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ইতোমধ্যে ৬০টির বেশি ধাপে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এর আওতায় ব্যালিস্টিক, হাইপারসনিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন ব্যবহার করে এই কৌশলগত হামলা অব্যাহত থাকবে।







