আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) তিনি নিশ্চিত করেন যে, যেহেতু দলটি বর্তমানে নিষিদ্ধ, তাই তাদের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। তবে এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনীতিতে ফেরার নতুন কৌশল খুঁজছে আওয়ামী লীগ।
৫ আগস্ট সরকার পতনের পর আওয়ামী লীগের প্রায় সব স্তরের জনপ্রতিনিধিদের পদ শূন্য হয়ে যায়। বর্তমানে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ায় পর্যায়ক্রমে সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগ নেতারা এই স্থানীয় নির্বাচনকেই রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হওয়ার ‘এন্ট্রি পয়েন্ট’ হিসেবে দেখছেন। দলীয় প্রতীক নিষিদ্ধ থাকলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াই করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।
দলীয় সূত্রমতে, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আত্মগোপনে থাকা নেতা-কর্মীদের দেশে ফেরার তাগিদ দিয়েছেন এবং স্থানীয় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। নেতারা মনে করছেন, জাতীয় রাজনীতিতে ফিরতে হলে আগে স্থানীয় পর্যায়ে জায়গা করে নিতে হবে। এজন্য তাঁরা কারাগারে থাকা নেতাদের জামিন এবং আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন।
রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও পেশাজীবী সংগঠন, বিশেষ করে আইনজীবী সমিতিগুলোর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেলগুলো সক্রিয় রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে কক্সবাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলা আইনজীবী সমিতি নির্বাচনে বিভিন্ন পদে জয় পাওয়ায় দলটি কিছুটা আশাবাদী হয়ে উঠেছে। আগামী মে মাসে অনুষ্ঠেয় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনেও ভালো ফল করার লক্ষ্য নিয়েছে তারা।
বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আওয়ামী লীগের জন্য একটি সুযোগ হতে পারে, বিশেষ করে যারা দলের শাসনামলে সুযোগ পাননি এমন জনপ্রিয় স্থানীয় ব্যক্তিদের জন্য। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ মনে করেন, জাতীয়ভাবে রাজনীতিতে ফিরতে হলে দলটিকে তাদের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে অনুশোচনা প্রকাশ করতে হবে, যা এখনও দেখা যায়নি।
এদিকে, সরকার সিটি করপোরেশন দিয়েই স্থানীয় নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা করছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ঈদের পর থেকেই বছরজুড়ে বিভিন্ন স্তরের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে এই নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হবে নাকি নির্দলীয় ব্যবস্থায়, তা নির্ধারণের জন্য সংসদের প্রথম অধিবেশনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করা হচ্ছে।







