সম্প্রতি ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিশেষ প্যাটার্নের সাইবার তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অসংখ্য ফেক আইডি থেকে ওসমান হাদীর ছবি প্রোফাইলে ব্যবহার করে ইসলামপন্থীদের উদ্দেশ্য করে চরম আপত্তিকর গালাগালি এবং নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক দলের (ছাত্রলীগ) পক্ষে ব্যাপক কমেন্ট স্প্যামিং চালানো হচ্ছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং সাধারণ মানুষের মনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর একটি সুপরিকল্পিত ছক।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, ছাত্রলীগ পরিকল্পিতভাবে বিপুল সংখ্যক ফেক আইডি তৈরি করে সেখানে ওসমান হাদীর ছবি ব্যবহার করছে। এই আইডিগুলো থেকে বিতর্কিত মন্তব্য এবং ধর্মীয় উস্কানিমূলক কথা বলা হচ্ছে, যাতে সাধারণ জনতা মনে করে এসব উগ্র আচরণ হাদীর অনুসারীদের পক্ষ থেকে করা হচ্ছে। মূলত সাধারণ মানুষের মাঝে ওসমান হাদীর প্রতি বিদ্বেষ ও ঘৃণা তৈরি করাই এই ক্যাম্পেইনের মূল লক্ষ্য।

এই সাইবার প্রোপাগান্ডার একটি বড় অংশ পরিচালিত হচ্ছে দেশের বাইরে থেকে। বিশেষ করে প্রবাসে অবস্থানরত নির্দিষ্ট রাজনৈতিক আদর্শের একটি চক্র এই আইডিগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে। দেশের বাইরে অবস্থান করায় এরা আইন-শৃঙ্খলার ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে অনবরত গালাগালি ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে তারা এক ঢিলে দুই পাখি মারার চেষ্টা করছে—একদিকে লীগের পক্ষে সাফাই গাওয়া, অন্যদিকে ইসলামপন্থীদের চরিত্র হনন করা।
সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি একটি পুরোনো ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ টেকনিক। যেখানে প্রতিপক্ষের প্রতীক বা ছবি ব্যবহার করে অত্যন্ত নিচু মানের কাজ করা হয়, যাতে জনমনে ওই পক্ষ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়। সাধারণ ব্যবহারকারীরা যাচাই-বাছাই না করেই এই ফাঁদে পা দিচ্ছেন এবং হাদীর ছবি দেখে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হচ্ছেন।

উল্লেখ্য যে, ওসমান হাদী মূলত একজন তাত্ত্বিক এবং সচেতন মহলে তাঁর নিজস্ব গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। যারা সরাসরি তাঁর আদর্শের মোকাবিলা করতে পারছে না, তারাই এখন ছদ্মনামে তাঁর ছবি ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাছে তাঁকে বিতর্কিত করার এই নোংরা পথ বেছে নিয়েছে। এ ধরনের সাইবার বুলিং ও স্প্যামিং রোধে সাধারণ ব্যবহারকারীদের সচেতন হওয়া এবং এ সকল ফেক আইডি রিপোর্ট করার আহ্বান জানানো হয়েছে।







