বিএনপি মহাসচিব ও বর্তমান সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত না হলেও চলতি ২০২৬ সালের মধ্যেই বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার রাতে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। সর্বশেষ ২০১৬ সালে দলটির কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
বর্তমান সরকারের এক মাসের কার্যক্রমকে ‘বিগ সাকসেস’ বা বড় সাফল্য হিসেবে অভিহিত করেছেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রজেক্ট এবং কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করার কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়া ইমাম, মুয়াজ্জিন ও ধর্মগুরুদের মাসিক ভাতা প্রদান শুরু করা এবং আগামী পহেলা বৈশাখ থেকে কৃষক কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনাকেও তিনি বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন।
অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, তছনছ হয়ে যাওয়া অর্থনীতিকে সঠিক পথে ফেরানোই এখন বড় লক্ষ্য। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ঋণ পেতে শুরু করেছেন। ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লেও বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত তা স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হয়েছে এবং তেল নিয়ে কোনো কেলেঙ্কারি ঘটেনি বলে তিনি দাবি করেন।
সংসদীয় গণতন্ত্র ও বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, সংসদে তর্ক-বিতর্ক ও ওয়াকআউট থাকাই হলো গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। সংসদ কার্যকর করতে সরকার সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করছে। তবে পতিত ফ্যাসিস্টরা দেশের বাইরে থেকে ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, আওয়ামী লীগের ওপর থাকা কার্যক্রমের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে কারণ জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভিসি নিয়োগ নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, রাজনৈতিক সরকার তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গিতেই নিয়োগ দেবে। তবে যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তারা একাডেমিক ও প্রশাসনিকভাবে অত্যন্ত যোগ্য। বিগত সরকারের আমলের ‘থার্ড ক্লাস’ পাওয়া লোক নিয়োগ দেওয়ার সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে মেধাবীদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি দমন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, গত এক মাসে দেশে ‘মব কালচার’ বা গণপিটুনির মতো ঘটনা প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে। দুর্নীতি দমন কমিশন পুনর্গঠন করা হচ্ছে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল থাকবে। ধ্বংসপ্রাপ্ত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে মেরামত করতে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে আনা হচ্ছে।
মির্জা ফখরুল আরও নিশ্চিত করেন যে, চলতি বছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন হবে। এ লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং দ্রুতই নির্বাচন কমিশনকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাজের গতি ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতাকে তিনি দেশের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেন।







