ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরানি ড্রোনের আক্রমণ থেকে রক্ষায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। এই লক্ষ্যে তিনি ওই অঞ্চলে ২০০ জনেরও বেশি ড্রোন বিশেষজ্ঞ পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন। মূলত ইরানের তৈরি ‘শাহেদ’ ড্রোনের হুমকি মোকাবিলায় ইউক্রেইনের অর্জিত বিশাল অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধে ইরান তাদের এই শাহেদ ড্রোনগুলো মস্কোর কাছে বিক্রি করেছিল, যা ইউক্রেইনের বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। তবে ইউক্রেনীয় বাহিনী এই ড্রোনগুলো ভূপাতিত করার ক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে। কিয়েভের দাবি অনুযায়ী, তারা ইরানের তৈরি এসব ড্রোন ধ্বংস করার ক্ষেত্রে প্রায় ৯০ শতাংশ সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
এখন সেই যুদ্ধকালীন অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, সৌদি আরব এবং কুয়েতের মতো দেশগুলোর কাছে সরবরাহ করছে ইউক্রেইন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য ইরানি ড্রোন এখন এক বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে এসব দেশ মূলত বড় আকারের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর দিকেই বেশি মনোযোগ দিয়েছে, যার ফলে নিচু দিয়ে উড়ে আসা ছোট ড্রোনের বিপদ অনেকটা উপেক্ষিত থেকে গেছে।
প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার এই পরিবর্তনের পেছনে আর্থিক সমীকরণটিও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি উচ্চ-প্রযুক্তির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল, যেখানে প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণে প্রায় ১ কোটি ডলার পর্যন্ত খরচ হতে পারে। এর বিপরীতে একটি ইরানি শাহেদ ড্রোনের দাম মাত্র ৫০ হাজার ডলারের কাছাকাছি।
ইউক্রেইন এখানে একটি সাশ্রয়ী ও কার্যকর সমাধান নিয়ে এসেছে। কিয়েভের বিশেষজ্ঞরা এমন সব ড্রোন ও প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন যা মাত্র তিন হাজার ডলার খরচ করেই একটি ইরানি ড্রোনকে ধ্বংস করতে সক্ষম। ফলে আধুনিক যুদ্ধের এই অসম লড়াইয়ে নিজেদের আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখতে উপসাগরীয় দেশগুলো এখন ইউক্রেইনের এই সাশ্রয়ী প্রতিরক্ষা কৌশলের ওপর ভরসা করতে চাইছে।
এই সহযোগিতার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। একদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং তেহরানের ড্রোন প্রযুক্তির প্রভাব কমানোর চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে ইউক্রেইন তার সামরিক অভিজ্ঞতাকে বৈশ্বিক কূটনৈতিক ও কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।







