সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় ঈদের আনন্দ বিষাদে রূপ নিয়েছে এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়। ঈদ বোনাস দেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে সোহেল রানা (২৪) নামে এক তরুণকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও খুনি কায়েমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম।
শনিবার (২১ মার্চ) দুপুরে উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের চিনাধুকুরিয়া গ্রামের একটি ধানখেত থেকে সোহেল রানার ক্ষতবিস্থত মরদেহ উদ্ধার করে শাহজাদপুর থানা পুলিশ। নিহত সোহেল কায়েমপুর ইউনিয়নের সরাতৈল গ্রামের আজাদ মণ্ডলের ছেলে। এই ঘটনায় নিহতের মা রুবি খাতুন বাদী হয়ে বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার রাত পৌনে আটটার দিকে সোহেল রানার মোবাইলে বারবার কল আসতে থাকে। মা রুবি খাতুন তাকে বাইরে যেতে নিষেধ করলেও বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম ‘ঈদ বোনাস’ দেবেন—এই প্রলোভন দেখিয়ে ৪-৫ জন যুবক সোহেলকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকেই সোহেলের ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং তিনি আর বাড়ি ফেরেননি।
শনিবার সকালে স্থানীয়রা ধানখেতে সোহেলের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশ ও পরিবারকে খবর দেয়। নিহতের মা রুবি খাতুন অভিযোগ করেছেন, বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম পরিকল্পিতভাবে তার ছেলেকে বাড়ি থেকে লোক পাঠিয়ে ডেকে নিয়ে গেছেন এবং নিজেই এই হত্যাকাণ্ডের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি সাইফুল ইসলামসহ এই নৃশংসতার সঙ্গে জড়িত সবার দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম বর্তমানে পলাতক থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তার পরিবার দাবি করেছে, তাকে রাজনৈতিকভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, মরদেহের গলার বাঁ পাশে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শ্বাসনালি কাটা ছিল। পুলিশ ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে এবং প্রধান আসামিসহ জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে।







