দেশে শাসক বদলালেও শোষণের ধারা বদলায়নি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি। বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের আমির বলেন, “আমরা চাই দেশে গণতন্ত্রের ধারা প্রতিষ্ঠিত হোক। কিন্তু একটি দল নির্বাচিত হয়েই বিভিন্ন জায়গায় নিজেদের প্রশাসন নিয়োগ দিচ্ছে এবং জনগণের রায়কে অমান্য করার চেষ্টা করছে।” তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পাকিস্তানিরা জনরায় অমান্য করায় ১৯৭১ সালে আমাদের অস্ত্র ধরতে হয়েছিল। বর্তমান শাসকরাও যদি জনরায় না মানে, তবে তরুণ সমাজ কঠিন জবাব দেবে।
ডা. শফিকুর রহমান ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, যদি এই সনদ মেনে নেওয়া না হয়, তবে হাদি, ফেলানী ও আবরার ফাহাদের রক্ত বিফলে যাবে। তিনি আরও বলেন, সরকার ভালো কাজ করলে আমরা সহযোগিতা করব, কিন্তু জনগণের বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তা রাজপথে প্রতিহত করা হবে।
সভার প্রধান বক্তা এলডিপি চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম বলেন, বৈষম্য ও সুশাসনের অভাবেই তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। বর্তমানেও সরকার ও সরকারদলীয় লোক ছাড়া সাধারণ মানুষ বৈষম্যহীন সেবা পাচ্ছে না। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করে আপনি জাতির কাছে স্মরণীয় হওয়ার সুযোগ হারাবেন না।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি বলেই ২০২৪ সালে আবার রক্ত দিতে হয়েছে। অথচ এখন সরকার সেই অঙ্গীকার থেকে ৩৬০ ডিগ্রি উল্টো পথে হাঁটার চেষ্টা করছে। ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন অভিযোগ করেন, বিএনপির পরামর্শেই জুলাই সনদ নিয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকির বলেন, ২৪-এর বিপ্লবকে কোনোভাবেই ব্যর্থ হতে দেওয়া হবে না। পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন মোবারক হোসাইন, হাফেজ মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ এবং মোহাম্মদ কামাল হোসেন এমপি।







