ইরানের সঙ্গে চলমান চরম উত্তেজনার মধ্যেই দেশটির বিদ্যুৎ গ্রিডে পরিকল্পিত হামলা আবারও স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই হামলার সম্ভাব্য সময়সীমা আরও ১০ দিন পিছিয়ে আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে দাবি করেছেন, ইরানের অনুরোধেই তিনি এই সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি অনুযায়ী, দুপক্ষের মধ্যে আলোচনা অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে এবং ইরান যুদ্ধ শেষ করার জন্য চুক্তির আবেদন জানাচ্ছে। তবে তেহরান এই ধরনের কোনো আলোচনার কথা সরাসরি অস্বীকার করেছে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য ইরানের ওপর ওয়াশিংটন যে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছে, এই সামরিক হুমকি ও সময়সীমা বাড়ানো সেই প্রক্রিয়ারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।

এর আগে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না করলে ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে আঘাত হানা হবে। পরবর্তীতে তিনি ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’র কথা বলে ৫ দিন সময় বাড়িয়েছিলেন, যা এখন দ্বিতীয় দফায় আবারও বাড়ানো হলো। বর্তমানে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের অন্যতম প্রধান এই রুটটি কার্যত অচল হয়ে থাকায় বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে।
ট্রাম্পের এই সামরিক পরিকল্পনার কঠোর সমালোচনা করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটি বেসামরিক বিদ্যুৎ গ্রিডে হামলার হুমকিকে ‘যুদ্ধাপরাধ সংঘটনের হুমকি’ হিসেবে অভিহিত করেছে। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরাসরি সামরিক প্রয়োজন ছাড়া বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো জেনেভা কনভেনশনের পরিপন্থী এবং এটি যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। বর্তমানে এই সংকটে হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। একদিকে আলোচনার দাবি এবং অন্যদিকে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের প্রস্তুতির খবর পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। ইরানও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে যে, তাদের জ্বালানি বা বিদ্যুৎ খাতে হামলা হলে পুরো অঞ্চলে পাল্টা আক্রমণ তীব্রতর করা হবে।






