জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোটের প্রস্তাব বিএনপি দিলেও দুই-তৃতীয়াংশ আসন পাওয়ার পর তারা অবস্থান পরিবর্তন করেছে। এতে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে এবং জনগণের সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতি তারা রক্ষা করেনি।
শুক্রবার বিকেলে ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের নাফিস কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি অভিযোগ করেন, সংবিধান অনুযায়ী জনগণ সর্বোচ্চ ক্ষমতার উৎস হলেও বাস্তবে তাদের মতামত উপেক্ষিত হচ্ছে। গণভোটে জনসমর্থন থাকা সত্ত্বেও সেটি কার্যকর না করা গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থি।
ফ্যাসিবাদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি একটি ধারাবাহিক প্রবণতা—এক ব্যক্তি থেকে আরেকজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। জনগণের রায় অগ্রাহ্য করাই ফ্যাসিবাদের লক্ষণ। তিনি দেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
জ্বালানি সংকট নিয়ে তিনি বলেন, সরকার প্রকৃত পরিস্থিতি আড়াল করছে। বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে তেল বিক্রি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ সমস্যা সমাধানে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনার আহ্বান জানান।
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় প্রশাসক নিয়োগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এতে জনগণের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং পরাজিত ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো অনৈতিক।
শিক্ষার্থীদের ‘হোম ক্লাস’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এতে শিশুরা আরও বেশি প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে পড়বে এবং তাদের মেধা বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
আগামী ৪ এপ্রিল থেকে ১১ দলীয় জোটের কর্মসূচি শুরু হবে জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। তবে তা হবে নিয়মতান্ত্রিক ও দৃঢ়।







