ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ৬৮ জন নির্বাচিত প্রতিনিধি রয়েছেন। এদের মধ্যে দলটির শীর্ষ নেতৃত্বসহ বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতারা অন্তর্ভুক্ত। ফলে সংসদীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তাদেরকে দলীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডও সামলাতে হচ্ছে, যা অনেকের জন্যই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, সংসদ অধিবেশন, নির্বাচনি এলাকার জনসেবা এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম—এই তিন ধরনের দায়িত্ব একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে ব্যস্ততা বেড়েছে এমপিদের। তবে তারা এসব দায়িত্ব যথাসাধ্য সমন্বয় করে পালন করার চেষ্টা করছেন।
ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, দলীয় ও সংসদীয় কাজ একসঙ্গে সামলাতে পরিশ্রম বাড়লেও দায়িত্ব পালনে কোনো ব্যাঘাত ঘটছে না। তিনি জানান, এলাকাবাসীর প্রত্যাশা বেড়েছে এবং মানুষ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তাদের কাছে আসছেন, যার সমাধানে তারা সচেষ্ট।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের এমপি মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ, সংসদে কার্যকর ভূমিকা রাখা এবং দলীয় দায়িত্ব—এই তিনটি ক্ষেত্রেই ভারসাম্য রক্ষা করার চেষ্টা চলছে। শুরুতে কিছুটা চাপ থাকলেও সময়ের সঙ্গে তা স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
দলীয় কার্যক্রমের ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন পর্যায়ে বৈঠক, প্রশিক্ষণ ও সাংগঠনিক কর্মসূচি নিয়মিত পরিচালিত হয়, যার তদারকি করেন শীর্ষ নেতারা। এখন সেই নেতারাই সংসদ সদস্য হওয়ায় তাদের দায়িত্বের পরিধি আরও বেড়েছে।
এদিকে সংসদ অধিবেশন চলাকালে ঢাকায় অবস্থানের কারণে অনেক এমপির পক্ষে নির্বাচনি এলাকায় নিয়মিত উপস্থিত থাকা সম্ভব হচ্ছে না। তবে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ঝিনাইদহ-২ আসনের এমপি আলী আযম মো. আবু বকর বলেন, সংসদীয় দায়িত্বের পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজ ও এলাকার মানুষের সমস্যার সমাধানে দিন-রাত কাজ করতে হচ্ছে। এতে ব্যস্ততা বাড়লেও দায়িত্ব পালনে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বিশেষ করে দলের আমির ডা. শফিকুর রহমানের ব্যস্ততা সবচেয়ে বেশি বলে জানা গেছে। তিনি একই সঙ্গে দলীয় প্রধান ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি নির্বাচনি এলাকাতেও নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছেন।







