ভোলা পৌরসভা মহিলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মী বিবি সাওদাকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বিরোধীদলীয় নেতা এ প্রতিক্রিয়া জানান।
পোস্টে তিনি লেখেন, জামায়াত কর্মী সাওদা সুমির সঙ্গে যে ধরনের নিকৃষ্ট আচরণ করা হয়েছে, তা নব্য ফ্যাসিবাদের ইঙ্গিত বহন করে। তিনি অভিযোগ করেন, ইতিহাসজুড়ে ফ্যাসিবাদী শক্তি নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে প্রতিবাদী কণ্ঠ দমন করতে চায়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের নিজেদের কণ্ঠই স্তব্ধ হয়ে যায়। এ ধরনের মানসিকতা থেকে সংশ্লিষ্টরা শিক্ষা নেবে কি না—তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এর আগে, সোমবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াযযম হোসাইন হেলাল।
বিবৃতিতে তিনি জানান, গত ৫ এপ্রিল রাত প্রায় ১১টার দিকে ভোলা পৌরসভা এলাকার নিজ বাসা থেকে বিবি সাওদাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় দলটির পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে গ্রেপ্তারের কারণ জানতে চাইলে ‘ঊর্ধ্বতন নির্দেশে’ এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। তার ভাষায়, এ ধরনের ব্যাখ্যা অতীতের স্বৈরাচারী আচরণের কথা মনে করিয়ে দেয় এবং তা দুঃখজনক, অমানবিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত। বিনা কারণে গভীর রাতে একজন নারীকে গ্রেপ্তার করায় এলাকায় আতঙ্ক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অ্যাডভোকেট হেলাল বলেন, বিবি সাওদার তিন বছর বয়সী একটি বাকপ্রতিবন্ধী সন্তান রয়েছে, যে মায়ের স্নেহ-পরিচর্যা ছাড়া স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে পারে না। এমন পরিস্থিতিতে তাকে গ্রেপ্তার করা মানবিকতা ও ন্যূনতম নৈতিকতার পরিপন্থী।
তিনি দাবি করেন, এ ধরনের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অগণতান্ত্রিক আচরণের বহিঃপ্রকাশ। ২০২৬ সালের নির্বাচন-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে দেশবাসী এমন পরিস্থিতি প্রত্যাশা করে না। জুলাইয়ের আন্দোলনের পর জনগণ যে গণতান্ত্রিক পরিবেশের আশা করেছিল, এই ঘটনা তার সম্পূর্ণ বিপরীত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিবৃতির শেষে তিনি অবিলম্বে বিবি সাওদার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন এবং দেশে একটি মানবিক, সুস্থ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।







