পবিত্র কোরআনে অহংকারকে একটি ধ্বংসাত্মক ব্যাধি হিসেবে বিভিন্নভাবে তুলে ধরা হয়েছে। একে ঘাতক বলা হয়, কারণ এটি মানুষের অন্তরকে ধীরে ধীরে নষ্ট করে দেয় এবং পরকালেও ভয়াবহ পরিণতির কারণ হয়। অহংকারই শয়তানকে অভিশপ্ত করেছে এবং আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত করেছে।
আল্লাহ তায়ালা কোরআনে বলেন, যারা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে অহংকার করে, তাদের তিনি তাঁর নিদর্শনাবলি থেকে বিমুখ করে রাখবেন (সুরা আ’রাফ, আয়াত: ১৪৬)। অন্যত্র বলা হয়েছে, আল্লাহ অহংকারীদের পছন্দ করেন না (সুরা আন-নাহল, আয়াত: ২৩)।
অর্থাৎ, যে ব্যক্তি সত্যের বিরুদ্ধে অহংকার করে, তার ঈমান তার কোনো উপকারে আসে না—ইবলিস এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
রাসুল (সা.) বলেছেন, “যার অন্তরে সামান্য পরিমাণ অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।” এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করেন, সুন্দর পোশাক বা জুতা পরা কি অহংকার? উত্তরে রাসুল (সা.) বলেন, “আল্লাহ সুন্দর, তিনি সৌন্দর্য পছন্দ করেন। অহংকার হলো সত্যকে অস্বীকার করা এবং মানুষকে তুচ্ছ করা।” (সহিহ মুসলিম)
আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন, অহংকারবশত মানুষকে অবজ্ঞা করো না এবং পৃথিবীতে গর্বভরে চলাফেরা করো না; নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো দাম্ভিক অহংকারীকে পছন্দ করেন না (সুরা লোকমান, আয়াত: ১৮)।
এছাড়া হাদিসে এসেছে, আল্লাহ বলেন, “মহত্ব আমার বৈশিষ্ট্য আর অহংকার আমার আবরণ। যে ব্যক্তি এ দুটির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করবে, আমি তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব।” (সহিহ মুসলিম)







