প্রতি বছর ঈদুল আজহায় মুসলমানরা পশু কোরবানি দিয়ে থাকেন এবং কোরবানির পর মাংস বণ্টন নিয়ে নানা ধরনের প্রচলিত ধারণা দেখা যায়। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো—কোরবানির মাংস কি সত্যিই তিন ভাগ করা বাধ্যতামূলক?
অনেকেই মনে করেন, কোরবানির মাংস তিন ভাগ করা উচিত—এক ভাগ নিজের জন্য, এক ভাগ আত্মীয়-প্রতিবেশীদের জন্য এবং আরেক ভাগ দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য। তবে আলেমদের মতে, এটি ইসলামে বাধ্যতামূলক কোনো নিয়ম নয়।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের একাধিক আলেম ও গবেষকদের ব্যাখ্যায় বলা হয়, কোরবানির মাংস সম্পূর্ণ নিজের জন্য রাখা যেমন বৈধ, তেমনি পুরোটা দান করাও বৈধ। অর্থাৎ এখানে কোনো বাধ্যতামূলক বণ্টন কাঠামো নেই।
তবে বড় পশুর ক্ষেত্রে (গরু, মহিষ ইত্যাদি) সাত ভাগে কোরবানি করার প্রচলন থাকলেও এটি মূলত অংশীদারিত্বের বিষয়, মাংস বণ্টনের নির্দিষ্ট শর্ত নয়।
সামাজিক প্রচলন ও “তিন ভাগ” ধারণা
বাংলাদেশের অনেক এলাকায় কোরবানির মাংসকে কেন্দ্র করে “সামাজিক ভাগ” নামের একটি রীতি প্রচলিত আছে। সেখানে সমাজের সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য নির্দিষ্ট অংশ আলাদা করে রাখা হয়।
আলেমদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ সামাজিকভাবে উপকারী হলেও এটিকে বাধ্যতামূলক হিসেবে চাপিয়ে দেওয়া ইসলামসম্মত নয়।
কোরআন-হাদিসের নির্দেশনা
কোরআনে কোরবানির বিষয়ে বলা হয়েছে, আল্লাহর কাছে পশুর মাংস বা রক্ত পৌঁছায় না; বরং পৌঁছায় মানুষের তাকওয়া। পাশাপাশি সুরা হজে উল্লেখ রয়েছে—কোরবানির মাংস খাও এবং অভাবীদেরও খাওয়াও।
হাদিসের আলোকে অনেক আলেম বলেন, নবী মুহাম্মদ (সা.) কোরবানির মাংস পরিবার, আত্মীয় এবং দরিদ্রদের মাঝে বণ্টন করতেন। এই কারণে তিন ভাগ করার ধারণা একটি উত্তম সামাজিক রীতি হিসেবে বিবেচিত হলেও এটি ফরজ বা ওয়াজিব নয়।
আলেমদের মতামত
গবেষক ও ধর্মীয় বক্তাদের মতে, কোরবানির মাংস বণ্টনে নমনীয়তা রয়েছে। কেউ চাইলে নিজের জন্য রাখতে পারেন, চাইলে সম্পূর্ণ দানও করতে পারেন।
তাদের ব্যাখ্যায়, তিন ভাগ করার প্রচলন একটি উৎসাহমূলক পদ্ধতি, তবে বাধ্যতামূলক কোনো বিধান নয়।
সব মিলিয়ে বলা যায়, কোরবানির মাংস তিন ভাগ করা ইসলামে বাধ্যতামূলক নয়, বরং এটি একটি সামাজিকভাবে প্রচলিত ও উত্তম (মুস্তাহাব) রীতি। মূল উদ্দেশ্য হলো—সামর্থ্য অনুযায়ী গরিব ও অসহায়দের সাহায্য করা এবং ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করা।







