ভয়াবহ যুদ্ধ আর ধ্বংসস্তূপের মাঝেও ফিলিস্তিনের গাজায় নতুন জীবনের স্পন্দন দেখা গেছে। দক্ষিণ গাজার খান ইউনুস শহরে একটি আবেগঘন গণবিবাহ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ৫০টি যুগল বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও ফিলিস্তিনিদের বেঁচে থাকার অদম্য ইচ্ছার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে এই আয়োজনকে।
টানা যুদ্ধ ও সামরিক অভিযানে গাজা যখন লণ্ডভণ্ড, ঠিক তখনই ‘মাদাদ ফিলিস্তিন’ নামক একটি দাতব্য সংস্থার উদ্যোগে এই বিয়ের আয়োজন করা হয়। নবদম্পতিদের অধিকাংশেরই ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং বর্তমানে তারা শরণার্থী শিবিরে তাঁবুর নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। আনন্দ আর বেদনার সংমিশ্রণে ঐতিহ্যবাহী ফিলিস্তিনি সঙ্গীত ও লোকনৃত্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।
বিবাহিতদের মধ্যে অনেকেই যুদ্ধে তাদের পরিবারের সদস্যদের হারিয়েছেন। বরদের একজন আহমেদ কাদিহ জানান, তাঁর সব স্বপ্ন ধ্বংস হয়ে গেলেও বেঁচে থাকার তাগিদে এবং একটু সুখের আশায় তিনি নতুন এই পথচলা শুরু করেছেন। তিনি বলেন, “আমাদের হৃদয় ভেঙে আছে, তবুও জীবনের প্রয়োজনে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।”
আয়োজক সংস্থাটি জানিয়েছে, মূলত এতিম ও নিদারুণ অর্থকষ্টে থাকা তরুণ-তরুণীদের সহায়তা করতেই এই প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দাতব্য সংস্থা ও ব্যক্তিগত অনুদানের মাধ্যমে নবদম্পতিদের কিছু আসবাবপত্র ও নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে। এই গণবিবাহকে দখলদারিত্ব ও যুদ্ধের মুখে ফিলিস্তিনি জনগণের টিকে থাকার এক নীরব প্রতিবাদ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।







