দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রপাতে মৃত্যুর ঘটনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মৃত ব্যক্তির মরদেহ চুরি বা চুরির চেষ্টার খবর প্রায়ই সামনে আসছে। বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে হলেও এর নেপথ্যে মূলত কাজ করছে গভীর কুসংস্কার, অমূলক গুজব এবং অপরাধচক্রের হীন স্বার্থ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের অপরাধের পেছনে বৈজ্ঞানিক কোনো কারণ নেই, বরং কিছু ভ্রান্ত ধারণাই দায়ী।
বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে বজ্রপাত হলো একটি উচ্চ ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক স্রোত, যা শরীরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে তাৎক্ষণিক মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের সাবেক প্রধান সোহেল মাহমুদ জানিয়েছেন, ইলেকট্রিক শকে মৃত্যু আর বজ্রপাতে মৃত্যুর মধ্যে কোনো মৌলিক পার্থক্য নেই। মৃত্যুর পর শরীরে কোনো অলৌকিক শক্তি বা বিশেষ উপাদান অবশিষ্ট থাকে না।
তবে গ্রামীণ জনপদে প্রচলিত লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, বজ্রপাতে মৃত মানুষের শরীরের অংশ বা ব্যবহৃত জিনিস ঝাড়ফুঁক ও তথাকথিত কালোজাদুর কাজে ব্যবহার করা যায়। এই ভ্রান্ত বিশ্বাসকে পুঁজি করেই অসাধু চক্র মরদেহ অবমাননা বা চুরির মতো অপরাধে লিপ্ত হয়। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, আকস্মিক মৃত্যু নিয়ে মানুষের মনের ভয় ও রহস্য থেকেই এমন অলৌকিক ব্যাখ্যার জন্ম হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তাদের মতে, সব সময় মরদেহ চুরির ঘটনা ঘটে না; অনেক সময় পারিবারিক জমিজমা নিয়ে বিরোধ বা সামাজিক আতঙ্কের কারণেও গুজব ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুত দাফন বা মরদেহ স্থানান্তরকেও অনেক ক্ষেত্রে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। তবে আধুনিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাইহীন তথ্যের কারণে এই কুসংস্কারগুলো আরও শক্তিশালী রূপ নিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, বজ্রপাতে মৃত্যু হলে গুজবে কান না দিয়ে দ্রুত স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত। বজ্রপাত সৃষ্টির পেছনে বাতাসের আর্দ্রতা, অস্থিতিশীল বায়ু এবং ঊর্ধ্বমুখী বায়ুপ্রবাহের মতো প্রাকৃতিক কারণগুলো সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো গেলে এই আতঙ্ক ও কুসংস্কার দূর করা সম্ভব।







