ঢাকা আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনকে ঘিরে জাল ভোট, অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের গুরুতর অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিল। শুক্রবার (১ মে) সংগঠনটির সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ এক বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করেন, নির্বাচন কমিশন গঠন থেকে শুরু করে ভোটগ্রহণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াই ছিল ত্রুটিপূর্ণ। ফলে এই নির্বাচন সাধারণ আইনজীবীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রথা অনুযায়ী দুই প্যানেলের সমসংখ্যক সদস্য নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠনের নিয়ম থাকলেও এবার তা মানা হয়নি। বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেল থেকে ৯০ জন এবং সবুজ প্যানেল থেকে মাত্র ৪১ জন সদস্য নিয়ে কমিশন গঠন করায় শুরুতেই ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে, নীল প্যানেল তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ভোটগ্রহণের সময় বিভিন্ন বুথে জাল ভোট প্রদান ও ব্যালট পেপার টেম্পারিংয়ের ঘটনা ঘটেছে। অনেক সিনিয়র আইনজীবী ভোট দিতে গিয়ে দেখেন তাঁদের ভোট আগেই দেওয়া হয়ে গেছে। ভোটারদের পরিচয় যাচাই-বাছাই না করেই ব্যালট পেপার সরবরাহ করায় এ ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করে সংগঠনটি।
নির্বাচনী ব্যবস্থার এই সংকট নিয়ে বার কাউন্সিল এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে লিখিত ও মৌখিকভাবে জানানো হলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে জানান মতিউর রহমান আকন্দ। তিনি আরও বলেন, ভোট গণনার ক্ষেত্রেও অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা দেখা গেছে। ফলে ঘোষিত ফলাফল ভোটারদের প্রকৃত রায়ের প্রতিফলন নয় এবং এটি নির্বাচনের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
সবশেষে, অনিয়মের মাঝেও যারা ভোট দিয়েছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিল ঘোষণা করে যে, তারা ভবিষ্যতে আইন অঙ্গনের যেকোনো বৈষম্য ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকবে। ভোটারদের রায়কে যারা কলঙ্কিত করেছে, তাদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।







