কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের ফলিয়াপাড়া এলাকায় আব্দুস সালাম ওরফে মাইক সালাম ভান্ডারির দাফন নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর ও বিতর্কিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গত সোমবার সকালে নিজ বাড়িতে তাঁর মৃত্যুর পর দাফনের আগে খাটিয়ার সামনে ছোট ছেলের গান পরিবেশন ও উঠানে ইটের তৈরি কবরে দাফন করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
জানা গেছে, আব্দুস সালামের জানাজা স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হলেও দাফনের প্রক্রিয়াটি ছিল একেবারেই ভিন্নধর্মী। মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার পর উঠানে আগে থেকেই ইট দিয়ে তৈরি করা একটি বিশেষ কবরে তাঁকে দাফন করা হয়। দাফনের ঠিক আগে তাঁর ছোট ছেলে মুবিন ভান্ডারি গান পরিবেশন করেন, যেখানে উপস্থিত অনেককেই তাঁর সঙ্গে সুর মেলাতে দেখা যায়।
ছেলের গাওয়া সেই গানে ‘মুর্শিদ পরশমণি’ ও ‘মুর্শিদ চরণ অমূল্য ধন’—এমন কথার আধ্যাত্মিক ভাবধারা ফুটে উঠলেও বিষয়টি সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনরা একে ধর্মীয় রীতির পরিপন্থী ও কুসংস্কার বলে অভিহিত করছেন। স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারে।
ঘটনাটি নিয়ে উখিয়া উপজেলা ইমাম সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাওলানা জাফর বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, একজন মুসলিমের কাফন-দাফন ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী হওয়ার কথা থাকলেও উখিয়ায় যা ঘটেছে, তা তিনি তাঁর জীবনে প্রথম দেখলেন। ইসলামি বক্তা ও স্থানীয় শিক্ষকরাও একে কোনো ধর্মীয় রীতির অংশ নয় বলে দাবি করেছেন।
এই বিষয়ে মৃত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বড় ছেলে মামুন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এবং ছোট ছেলে মুবিন ঘুমের কথা বলে এড়িয়ে গেছেন। এমন ব্যতিক্রমী ও বিতর্কিত দাফন প্রক্রিয়া নিয়ে এখনো স্থানীয় সচেতন মহলে নানা আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।







