রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী অভিযোগ করেছেন, ১৯৯১ সালে রাজনৈতিক দলগুলো সম্মিলিতভাবে যে সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছিল, ক্ষমতায় এসে বিএনপি তার কোনোটিই বাস্তবায়ন করেনি। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পরও প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসেনি; বরং একটি “প্রতারণামূলক রাজনৈতিক বাস্তবতা”র মুখোমুখি হতে হয়েছে। তার মতে, দেশের এলিট শ্রেণি, সিভিল-মিলিটারি ও بيرোক্র্যাটিক কাঠামো ক্ষমতা ছাড়তে অনাগ্রহী হওয়ায় সংস্কার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
রোববার (৩ মে) সকালে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজিত জ্বালানি, অর্থনীতি সংস্কার ও গণভোট বিষয়ক জাতীয় কনভেনশনে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সাম্প্রতিক সংসদীয় বক্তব্যের সমালোচনা করে উল্লেখ করেন, উন্নত গণতান্ত্রিক দেশে এমন বক্তব্য দিলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকে তাৎক্ষণিক পদত্যাগ করতে হতো।
অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেন, নির্বাচনের অল্প সময়ের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে পুনরায় বিতর্ক শুরু হয়েছে। জুলাই সনদ ও সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশে অন্তর্ভুক্ত গুম, মানবাধিকার, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং বিচার বিভাগসহ নানা প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার সরকার বাতিল করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বচ্ছ ও স্বাধীন নিয়োগ নিশ্চিত করতে একটি কাউন্সিল গঠনের কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। তার মতে, এসব সংস্কার বাস্তবায়িত না হলে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা আরও কেন্দ্রীভূত ও কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠতে পারে। তাই সরকারকে জুলাই সনদ ও গণভোটের প্রতিশ্রুতি মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি; অন্যথায় দেশ আবার অতীতের শাসনব্যবস্থার দিকে ফিরে যেতে পারে বলেও সতর্ক করেন।







