ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে গতকাল কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সংসদ কক্ষে চরম উত্তেজনা, হট্টগোল ও বাক-বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়েছে। এদিন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অধিবেশন চলাকালীন ফজলুর রহমান মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে কঠোর মন্তব্য করলে বিরোধী দলের সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এক পর্যায়ে স্পিকারকে নিজের আসন থেকে দাঁড়িয়ে যেতে হয়।
সংসদে ফজলুর রহমান দাবি করেন, মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের তুলনা করা অন্যায্য। তিনি বিরোধী দলের সদস্যদের ‘আল-বদরের বাচ্চা’ বলে সম্বোধন করেন এবং চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, রাজাকাররা এ দেশে কখনো রাজনৈতিক যুদ্ধে জয়লাভ করতে পারবে না। তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, শহীদ পরিবারের কোনো সদস্য জামায়াতে ইসলামী করতে পারে না এবং এটি করা ‘ডাবল অপরাধ’। তাঁর এই বক্তব্যে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের এমপিরা দাঁড়িয়ে সমস্বরে প্রতিবাদ জানান।
অধিবেশনের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পুরনো ভিডিও নতুন করে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে কিশোরগঞ্জের কোম্পানি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আইয়ুব বিন হায়দার দাবি করেছেন যে, ফজলুর রহমান কোনো কোম্পানি কমান্ডার ছিলেন না এবং তিনি কোনোদিন রাইফেল হাতে যুদ্ধও করেননি। আইয়ুব বিন হায়দারের মতে, ফজলুর রহমান বিএলএফ-এর সদস্য হিসেবে ট্রেনিং নিলেও সরাসরি রণাঙ্গনে অংশ নেননি এবং তাঁর অধীনে ৯০০ মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধ করার দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।
আইয়ুব বিন হায়দার ওই ভিডিওতে আরও বলেন, ফজলুর রহমান বারবার রাজনৈতিক দল পরিবর্তন করেছেন এবং বর্তমানে তিনি ‘মিথ্যা তথ্য’ দিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। তিনি দেশবাসীকে এ ধরনের ‘মিথ্যাবাদীর’ পেছনে না যাওয়ার আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, এই সাক্ষাৎকারটি গত বছরের ১৪ অক্টোবর স্থানীয় গণমাধ্যম ‘কিশোরগঞ্জ প্রেস’-এ প্রকাশিত হলেও সংসদের গতকালের ঘটনার পর এটি পুনরায় আলোচনায় উঠে এসেছে।
এদিকে সংসদের হট্টগোল থামাতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সদস্যদের সতর্ক করে বলেন, সংসদের কার্যক্রম বিধি মোতাবেক না চললে এর মর্যাদা থাকবে না। তিনি সংসদ সদস্যদের দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, গ্যালারিতে বসে থাকা নাতি-নাতনিরা বয়স্ক সদস্যদের এমন আচরণ দেখলে লজ্জিত হবে। স্পিকার আশ্বাস দেন যে, কোনো অসংসদীয় বক্তব্য থাকলে তা পরীক্ষা করে এক্সপাঞ্জ (বাদ দেওয়া) করা হবে, তবে সংসদ চলাকালীন কারো বক্তব্যে বাধা দেওয়া ঠিক নয়।







