পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয় সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ করতে অস্বীকার করেছেন। মঙ্গলবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, তৃণমূল হারেনি বরং বিজেপি অন্তত ১০০টি আসন লুট করেছে। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কেউ তাঁকে বাধ্য করলেও তিনি পদত্যাগ করবেন না। তবে ভারতের সংবিধান অনুযায়ী, কোনো মুখ্যমন্ত্রী চাইলে অনির্দিষ্টকাল পদে থাকতে পারেন না।
সংবিধানের ১৭২ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, একটি বিধানসভার মেয়াদ প্রথম অধিবেশন থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর। নিয়ম অনুযায়ী, ৬ মে বুধবার বর্তমান তৃণমূল সরকারের পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এই নির্ধারিত সময়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই তার আইনি বৈধতা হারাবে। ফলে তিনি পদত্যাগ না করলেও সাংবিধানিক নিয়মেই তাঁর ক্ষমতার অবসান ঘটবে।
সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনুচ্ছেদ ১৬৪(১) অনুযায়ী মুখ্যমন্ত্রী “রাজ্যপালের ইচ্ছা সাপেক্ষে” পদে থাকেন। এখানে ইচ্ছা বলতে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমর্থনকে বোঝায়। যেহেতু নির্বাচনে তৃণমূল সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে, তাই রাজ্যপাল চাইলে তাঁর বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে মুখ্যমন্ত্রীকে বরখাস্ত করতে পারেন এবং নতুন বিজয়ী দলকে সরকার গঠনের আহ্বান জানাতে পারেন।
ভারতের ইতিহাসে নির্বাচনী পরাজয়ের পর পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানানোর ঘটনা নজিরবিহীন। এর আগে অরবিন্দ কেজরিওয়াল বা জয়ললিতার মতো নেতারা আইনি জটিলতায় পড়েও পদে থাকতে চেয়েছেন, কিন্তু নির্বাচনী গণরায়ের পর পদ আঁকড়ে রাখার উদাহরণ নেই। সাংবিধানিক আইন বিশেষজ্ঞ পিডিটি আচারিয়া জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ না করলেও আজ মেয়াদের শেষ দিন হওয়ায় তিনি আর পদে থাকতে পারবেন না।
এদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে মমতার এই অবস্থানকে ‘হাস্যকর’ ও ‘অসাংবিধানিক’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। বিজেপি মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেছেন, গণরায়ে পরাজিত হওয়ার পর এমন বক্তব্য দিয়ে তিনি নিজেকেই ছোট করছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য দমে না গিয়ে ঘোষণা করেছেন, তিনি এই ফলাফল মেনে নেবেন না এবং বিজেপির ‘অত্যাচারের’ বিরুদ্ধে আবারো রাস্তায় নামবেন।







