বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসের দীর্ঘদিনের তিক্ততা, বর্জন আর কাদা ছোড়াছুড়ির সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক নির্বাচনের পর নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের মধ্যে অত্যন্ত ইতিবাচক ও গঠনমূলক আলোচনা সংসদীয় গণতন্ত্রের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্র সংস্কারে বিরোধী দলের সহযোগিতা চেয়েছেন এবং বিরোধীদলীয় নেতা প্রতিহিংসার রাজনীতি সমাহিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দেড় দশকের একদলীয় শাসনব্যবস্থার অবসানের পর জনগণের প্রত্যাশা পূরণে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো তাদের দর্শনে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। সংসদকে কেবল সরকারি দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নের কেন্দ্র না বানিয়ে জাতীয় বিতর্কের প্রাণকেন্দ্রে পরিণত করতে উভয় পক্ষই ঐকমত্য পোষণ করেছে। সংসদীয় কার্যক্রমে ব্যক্তিগত আক্রমণ বন্ধ এবং যুক্তিভিত্তিক বিতর্কের ওপর জোর দিতে কার্যপ্রণালী বিধি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির মূলে রয়েছে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা। প্রতিটি সিদ্ধান্ত গ্রহণে ‘জুলাই সনদ’ বা শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করা হচ্ছে। বিশিষ্টজনদের মতে, দীর্ঘ সময় পর সংসদে কোনো এক দলের নিরঙ্কুশ আধিপত্যের পরিবর্তে প্রকৃত সংসদীয় বিতর্ক দেখা গেছে। তবে এই ইতিবাচক ধারা যেন কেবল কৌশলগত সমন্বয়ে সীমাবদ্ধ না থেকে সুশাসনে রূপ নেয়, সেদিকে নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
অধিবেশনে তরুণ সংসদ সদস্যদের বলিষ্ঠ অংশগ্রহণ এবং শিক্ষা ও প্রযুক্তি সংক্রান্ত দাবিগুলো বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। সরকারি দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সংসদকে প্রতিহিংসার রাজনীতি চিরতরে সমাহিত করার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হবে। ত্রয়োদশ সংসদের এই ইতিবাচক ধারা বজায় থাকলে বাংলাদেশ বিশ্বদরবারে একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।







