পশ্চিমবঙ্গের সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের শোচনীয় পরাজয় সত্ত্বেও পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। লোকভবনে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ না করার এই অনড় অবস্থানে রাজ্যে এক নজিরবিহীন সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার রাত ১২টায় বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে, যার ফলে এরপরের আইনি পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠছে।
বিজেপি নেতৃত্ব ইতোমধ্যেই ঘোষণা করেছে যে, তারা আগামী ৯ মে শনিবার রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তীর দিন নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি আজ রাতের মধ্যে পদত্যাগ না করেন, তবে শুক্রবার অর্থাৎ ৮ মে থেকে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগ পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার জন্য রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হতে পারে। প্রবীণ আইনজ্ঞদের মতে, ভারতের সংসদীয় ইতিহাসে এমন ঘটনা বিরল ও নজিরবিহীন।
সাংবিধানিক রীতি অনুযায়ী, পরাজয় নিশ্চিত হওয়ার পরপরই বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ করেন এবং নতুন সরকার না আসা পর্যন্ত রাজ্যপালের অনুরোধে ‘কেয়ারটেকার’ বা অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব পালন করেন। পার্শ্ববর্তী রাজ্য তামিলনাড়ুতেও স্ট্যালিন সরকার এই রীতি মেনে পদত্যাগ করে কেয়ারটেকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ না করায় সেই স্বাভাবিক পথটি অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।
সংবিধানের ১৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এক মুহূর্তও বিদায়ী মন্ত্রিসভা ক্ষমতায় থাকতে পারে না। ভারতের প্রবীণ আইনজীবী হরিশ সালভে জানিয়েছেন, ৭ মে বিধানসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার সাথে সাথে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে থাকতে পারবেন না। রাজ্যপাল পদত্যাগ দাবি করার পরও তিনি অনড় থাকলে সামান্য সময়ের জন্য হলেও রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা বাধ্যতামূলক হয়ে পড়বে।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল ২৯৩টি কেন্দ্রের নবনির্বাচিত বিধায়কদের তালিকা রাজ্যপালের কাছে হস্তান্তর করেছেন। এই তালিকার ভিত্তিতে রাজ্যপাল সংখ্যাগরিষ্ঠ দলকে সরকার গঠনের আহ্বান জানাবেন। ৯ মে নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নিলে রাষ্ট্রপতি শাসনের অবসান ঘটবে। বর্তমানে বাংলার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।







