দেশের শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে এক উদ্বেগজনক চিত্র ফুটে উঠেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২১টি জেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া শিশুদের প্রায় অর্ধেকই ছিল ৯ মাস বয়সের কম। প্রচলিত টিকাদান কর্মসূচি অনুযায়ী, এই শিশুদের হামের টিকা দেওয়ার সময় হওয়ার আগেই তারা এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের শিকার হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গে এ পর্যন্ত মোট ৪১৫ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় ৬৫ জনের মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামের কারণে হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বাকি ৩৫০টি মৃত্যুকে হাম-সদৃশ উপসর্গ হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
বিশেষ করে ৬ মাস বা তার কম বয়সী শিশুদের মৃত্যু নিয়ে চিকিৎসকরা বেশি উদ্বিগ্ন। বিশ্লেষণ করা ৬০টি মৃত্যুর মধ্যে ১৫ জন শিশুর বয়স ছিল মাত্র ৬ মাস বা তারও কম। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, সরকারিভাবে হাম-রুবেলার প্রথম ডোজটি দেওয়া হয় ৯ মাস পূর্ণ হওয়ার পর। ফলে এর চেয়ে কম বয়সী শিশুরা কোনো ধরনের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ছাড়াই চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
মৃত শিশুদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে কনিষ্ঠ শিশুর বয়স ছিল মাত্র ৩ মাস এবং সবচেয়ে বড় শিশুর বয়স ছিল ৯ বছর। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ৯ মাসের কম বয়সী শিশুদের এই উচ্চ মৃত্যুঝুঁকি মোকাবিলায় টিকাদান কর্মসূচির বয়সসীমা পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন হতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা স্বাস্থ্য বিভাগের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।







