বাগেরহাটের রামপালে আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিরোধপূর্ণ জমি দখল করে ভবন নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইস্রাফিল শেখ নামের স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত ডিআইজি ওমর ফারুকের প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের পাঁয়তারা চালানো হচ্ছে বলে ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করেছে। বাগেরহাট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেও প্রতিকার না পাওয়ায় স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নানা গুঞ্জন দেখা দিয়েছে।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, রামপাল উপজেলার গিলাতলা মৌজার একটি বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে সিনিয়র সিভিল জজ আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। আদালত ওই জমির ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করে স্পষ্ট নির্দেশনা দেন যে, মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সেখানে কোনো ধরনের নির্মাণকাজ, দোকানঘরের ক্ষতি, ভাড়াটিয়া উচ্ছেদ কিংবা বাদীর ভোগদখলে বাধা দেওয়া যাবে না।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, আদালতের আদেশের অনুলিপি স্থানীয় প্রশাসন ও থানা পুলিশকে দেওয়ার পরও অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে এবং দ্রুতগতিতে ভবন নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চাইলে সহজেই এই কাজ বন্ধ রাখতে পারত বলে মনে করেন তাঁরা।
ভুক্তভোগীদের দাবি, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত ডিআইজি মো. ওমর ফারুকের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এই জমি দখলের চেষ্টা চলছে। এই বিষয়ে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা ইস্রাফিল শেখ এবং অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত ডিআইজি ওমর ফারুকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অভিযুক্তের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের দাবি, জমিটি বৈধভাবে কেনা হয়েছে এবং আইন মেনেই কাজ চলছে।
অভিযুক্ত ইস্রাফিল শেখ রামপাল উপজেলার বাঁশতলী ইউনিয়ন বিএনপির সর্বশেষ দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছিলেন। একজন রাজনৈতিক নেতার এমন কর্মকাণ্ড এবং প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা আইনের শাসনের প্রতি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে সচেতন মহল।
এই বিষয়ে রামপাল-মোংলার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রেফাতুল ইসলাম জানান, আদালতের আদেশের বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে। আইন অনুযায়ী কেউ আদালতের আদেশ অমান্য করলে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







