নাটোরের গুরুদাসপুরে এক নারীসহ উপজেলা যুবদল নেতা রেজাউল করিম রেজাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার গভীর রাতে উপজেলার হামলাইকোল এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। তবে গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাঁদের বিরুদ্ধে সাধারণ ১৫১ ধারায় মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানোয় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত রেজাউল করিম রেজা উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়ন যুবদলের ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক এবং দৌলতপুর গ্রামের রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে। অন্যদিকে গ্রেপ্তারকৃত নারী রুমা আক্তার লাবণী স্থানীয় আদম ব্যবসায়ী বুলবুলের স্ত্রী। স্থানীয়দের অভিযোগ, রুমা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন এবং যুবদল নেতা রেজা তাঁর সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন।
ঘটনার রাতে স্থানীয় জনতা তাঁদের দুজনকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করে পুলিশে খবর দেয়। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ আসার আগেই কৌশলে মাদক সরিয়ে ফেলা হয়। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রুমা সিগারেটে গাঁজা ভরছেন এবং পাশে বসে যুবদল নেতা রেজা মাদক বিক্রির টাকা গুনছেন। স্থানীয়দের দাবি, এটি তাঁদের নিত্যদিনের চিত্র।
গ্রেপ্তারের প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় (অপরাধ প্রতিরোধমূলক আটক) মামলা দায়ের করে বৃহস্পতিবার বিকেলে আদালতে চালান করে। লঘু ধারার মামলা হওয়ায় আদালতে হাজির করার মাত্র ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই জামিন পেয়ে যান যুবদল নেতা রেজাউল। এই ঘটনার পর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
গুরুদাসপুর থানার ওসি মনজুরুল আলম জানান, ঘটনাস্থলে কোনো নির্দিষ্ট বাদী পাওয়া যায়নি এবং আসামিদের কাছে সরাসরি কোনো মাদক না পাওয়ায় পুলিশ বাধ্য হয়ে ১৫১ ধারায় মামলা রুজু করে তাঁদের নাটোর কারাগারে পাঠিয়েছিল। তবে আইনি প্রক্রিয়ার লঘু ধারা নিয়ে বিতর্ক থামছে না।
এদিকে এই ঘটনার পরদিনই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জেলা যুবদল রেজাউল করিম রেজাকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নৈতিক স্খলন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থি কাজে জড়িত থাকার অপরাধে তাঁর সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতারাও এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে দল থেকে এমন অপরাধীদের দ্রুত দূর করার তাগিদ দিয়েছেন।







