পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ চার দিনের সরকারি সফরে শনিবার (২৩ মে) বেইজিং যাচ্ছেন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আগামী মঙ্গলবার (২৬ মে) পর্যন্ত এই সফর চলবে। সফরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে চীনের নেতাদের সঙ্গে তিনি বিস্তারিত আলোচনা করবেন।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার সময়ে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যার প্রশংসা করেছে বেইজিং। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পাকিস্তানের সঙ্গে কাজ করতে চীন প্রস্তুত।
গত মাসে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা আয়োজন করে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজের অবস্থান দৃঢ় করেছে। এদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকের পর জানা গেছে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে শি সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন। তেল পরিবহনের এই গুরুত্বপূর্ণ পথটি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কার্যত অচল হয়ে আছে।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এবং পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের মধ্যেও সম্প্রতি ফোনালাপ হয়েছে, যেখানে বেইজিং শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইসলামাবাদকে তাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে। যদিও গত ৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি সতর্ক করেছেন যে কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।
সফরকালে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসনে দুই দেশ কোনো বিশেষ কৌশল গ্রহণ করে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে কৌতূহল রয়েছে। যদিও চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরাসরি এই ইস্যুটি নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট এজেন্ডার কথা উল্লেখ করেনি, তবে বেইজিং যে উপসাগরীয় অঞ্চলের সংকট নিরসনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চায়, তা তাদের কূটনৈতিক তৎপরতায় স্পষ্ট।







