দীর্ঘ তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে অবশেষে একটি ব্যাপকভিত্তিক শান্তি চুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। আলোচনার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় থাকা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সোমবার এই ঐতিহাসিক কূটনৈতিক সাফল্যের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, আগামী ১৯ জুন শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ইরানের সাথে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি ঘোষণা দেন, এই চুক্তির আওতায় বিশ্বের তেল পরিবহনের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ সম্পূর্ণ টোল-মুক্ত (মুক্ত চলাচল) করা হবে। সেই সঙ্গে ইরান উপকূল থেকে মার্কিন নৌ অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে চুক্তি স্বাক্ষরের খবরটি নিশ্চিত করেছেন। দীর্ঘ তীব্র লড়াইয়ের পর এই চুক্তিকে ইরানি সামরিক কর্মকর্তারা তেহরানের বড় বিজয় হিসেবে চিত্রিত করছেন।
বিশ্বের দুই বৈরী শক্তির এই শান্তি চুক্তিকে আন্তর্জাতিক মহল ব্যাপকভাবে স্বাগত জানিয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ছাড়াও জার্মানি, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং ইতালি যৌথভাবে এই চুক্তিকে সাধুবাদ জানিয়েছে। তবে মার্কিন মিত্র ইসরায়েলের কট্টরপন্থী মন্ত্রীরা এই চুক্তির সমালোচনা করে একে তাদের দেশের জন্য ‘ক্ষতিকর’ বলে মন্তব্য করেছেন।
চলতি বছরের ২৮শে ফেব্রুয়ারি ইরান ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়েছিল। এর জবাবে ইরানও ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এক পর্যায়ে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় ইরান, যার জবাবে মার্কিন প্রশাসনও ইরানি বন্দরগুলো ঘিরে কঠোর নৌ অবরোধ তৈরি করেছিল।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, জেনেভায় অনুষ্ঠেয় এই ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স উপস্থিত থাকবেন। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত থেকে স্বাক্ষর করতে পারেন বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।







