রাজধানীর মিরপুরে দ্বিতীয় শ্রেণির শিশু শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ডিএনএ টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান জানিয়েছেন, আগামীকাল রোববার (২৪ মে) এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আদালতে দাখিল করা হবে।
এর আগে গত বুধবার (২০ মে) গ্রেপ্তার হওয়া প্রধান আসামি যুবলীগ কর্মী সোহেল রানা আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে সে উল্লেখ করেছে যে, এই জঘন্য অপরাধ ঘটানোর আগে সে ইয়াবা সেবন করেছিল। আদালত আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করার পাশাপাশি এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।
নিহত ৮ বছর বয়সী রামিসা আক্তার পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকালে সে ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে তাদের ফ্ল্যাটের রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। পরে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করার একপর্যায়ে তার বাবা-মা ও প্রতিবেশীরা আসামির ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং একটি বালতির ভেতরে তার কাটা মাথা উদ্ধার করা হয়।
সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা স্বপ্না আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে জানায়, তার স্বামী সোহেল রানা রামিসাকে বাথরুমে আটকে রেখে ধর্ষণ ও গলা কেটে হত্যা করেছে। মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে ধারালো ছুরি দিয়ে মাথা কেটে আলাদা করা হয় এবং তার যৌনাঙ্গ ও হাত ক্ষতবিক্ষত করে খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। ঘটনার পর জানালার গ্রিল কেটে সোহেল রানা পালিয়ে গেলেও পরে নারায়ণগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।







