সিলেটে র্যাব সদস্য ইমন আচার্য হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত মাদকাসক্ত ছিনতাইকারী আসাদুল আলম বাপ্পী আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘাতক বাপ্পী নগরীর কাজিরবাজার এলাকার মোগলটুলা ২৪ নম্বর বাসার বাসিন্দা এবং ১৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হোসেনের ছেলে। কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির জানান, জবানবন্দি রেকর্ড শেষে বিচারক আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২২ বছর বয়সী বাপ্পী অল্প বয়সেই সিলেটের অপরাধ জগতের অন্যতম হোতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তাঁর বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় ধর্ষণ, ছিনতাই ও মাদকসহ আগের আরও ৪টি মামলা রয়েছে। বিগত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে বাপ্পী তাঁর পিতার দলীয় প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় নিজস্ব ছিনতাই সিন্ডিকেট ও কিশোর গ্যাং তৈরি করে নানামুখী অপকর্ম চালিয়ে আসছিলেন। পকেটে সবসময় ছোরা নিয়ে ঘুরে বেড়ানো বাপ্পীর অত্যাচারে কাজিরবাজারসহ আশপাশের এলাকার মানুষজন দীর্ঘ দিন ধরে নাজেহাল ছিলেন। ছেলের এমন অপকর্মে অতিষ্ঠ হয়ে একপর্যায়ে পিতা আবুল হোসেন তাঁকে মৌখিকভাবে ত্যাজ্য করেন এবং এর আগে দুবার নিজে উদ্যোগী হয়ে বাপ্পীকে পুলিশের হাতে তুলেও দিয়েছিলেন।
এই নৃসংশ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে গত শুক্রবার নগরীর ক্বিনব্রিজ এলাকায়। সেখানে মাদকসেবী ও ছিনতাইকারীদের ধাওয়া করার সময় সাদা পোশাকে থাকা র্যাব-৯ এর সদস্য ইমন আচার্য জীবন বাজি রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করতে এগিয়ে যান এবং আসাদুল আলম বাপ্পীকে ঝাপটে ধরেন। এ সময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে বাপ্পী তাঁর কাছে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে ইমনের বুকের বাম পাশে সজোরে আঘাত করেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইমন আচার্যের মৃত্যু হয়।
র্যাব সদস্যের ওপর হামলার পর পালিয়ে যাওয়ার সময় অভিযুক্ত বাপ্পী তোপখানা এলাকার একটি বাসার ভেতরে ঢুকে এক শিশুকে গলায় ছুরি ধরে জিম্মি করার চেষ্টা চালান। তবে পুলিশ ও র্যাবের তাৎক্ষণিক যৌথ অভিযানে শিশুটিকে অক্ষত উদ্ধার করা সম্ভব হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা ছুরিসহ ঘাতক বাপ্পীকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় নিহত ইমনের ভাই সুজিত আচার্য বাদী হয়ে শনিবার (২৩ মে) কোতোয়ালি থানায় আসাদুল আলম বাপ্পীকে একমাত্র আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, ছেলেটি স্থানীয় বিএনপি নেতার সন্তান হলেও দীর্ঘদিন ধরে তাঁর সঙ্গে পিতার কোনো পারিবারিক সম্পর্ক নেই। তিনি দাবি করেন, বিএনপি ছিনতাই ও মাদকের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতিতে রয়েছে এবং বাপ্পী যে নেতার ছেলেই হোক না কেন, অপরাধের জন্য তাকে কঠোর শাস্তি পেতে হবে। এই জঘন্য অপরাধের সাথে পিতার রাজনৈতিক বা দলীয় পরিচয় টেনে আনা কোনোভাবেই সঠিক নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।







