কুড়িগ্রামের চিলমারী সরকারি ডিগ্রি কলেজের ফটকের তিনটি তালা ভেঙে এবং কলেজ কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জোরপূর্বক মাঠে পশুর হাট বসানোর অভিযোগ উঠেছে জেলা ছাত্রদলের সদ্য সাবেক কমিটির সহ-সমাজসেবা সম্পাদক জিহাদ ফেরদৌস চমকের বিরুদ্ধে। রবিবার (২৪ মে) দুপুরে পেশীশক্তি ব্যবহার করে কলেজের প্রবেশদ্বারের তালা ভেঙে ভেতরে বাঁশের খুঁটি গেড়ে এই হাট বসানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন কলেজটির অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মজিবল হায়দার চৌধুরী।
কলেজের অধ্যক্ষ জানান, সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে হাট বসানোর নিয়ম নেই। কলেজের স্টাফ কাউন্সিলের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কলেজ মাঠে পশুর হাট বসানোর অনুমতি না দেওয়ার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়। গত বুধবার রেজুলেশনসহ বিষয়টি লিখিতভাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং চিলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) জানানো হয়েছিল। রবিবার সকালে কলেজ চত্বরে পুলিশ পাঠানো হলেও তারা চলে যাওয়ার পরপরই অভিযুক্তরা তালা ভেঙে মাঠে প্রবেশ করে গরু-ছাগলের হাট বসায়। এ বিষয়ে নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে অধ্যক্ষ বলেন, স্থানীয় প্রশাসনকে লিখিত জানানোর পরও তারা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।
অভিযুক্ত সাবেক ছাত্রদল নেতা জিহাদ ফেরদৌস চমক অবশ্য দাবি করেছেন, জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিয়ে এবং উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে অবহিত করেই তিনি ঐতিহ্যবাহী এই হাটটি বসিয়েছেন। ২০২৫ সালের অস্থায়ী হাট সংক্রান্ত সরকারি আইন মেনে জামানতের টাকা জমা দেওয়ার রসিদ তাঁর কাছে আছে বলে দাবি করলেও তিনি প্রশাসনের দেওয়া কোনো লিখিত অনুমতিপত্র দেখাতে পারেননি। চিলমারী উপজেলা শহরে বসবাসকারী এই নেতার দাবি, যুগ যুগ ধরে স্কুল-কলেজের মাঠেই এই অস্থায়ী হাট বসে আসছে।
তবে ছাত্রদল নেতার এই অনুমতির দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, তারা হাটের জন্য আবেদন করলেও প্রশাসন থেকে কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে পশুর হাট বসানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, অধ্যক্ষ গেটে তালা দিয়ে রাখার পরও সেই তালা ভেঙে অবৈধভাবে এই হাট বসানো হয়েছে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইতিমধ্যেই উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে (ইউএনও) কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।







