ইরানের সাথে কৌশলগত ও কূটনৈতিক চুক্তির শর্ত হিসেবে ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া একটি বিশেষ প্রস্তাব তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান। ট্রাম্পের এই আকস্মিক প্রস্তাবের জবাবে ইসলামাবাদ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে, ইরান এবং ইসরায়েল দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ইস্যু। এই দুই দেশের মধ্যকার বিষয়গুলোকে কোনোভাবেই এক সুতোয় গাঁথা বা সমীকরণে আনা সম্ভব নয়।
পাকিস্তান সরকার তাদের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতি পুনর্ব্যক্ত করে জানিয়েছে, ফিলিস্তিন সংকটের একটি স্থায়ী ও যৌক্তিক সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলের সাথে কোনো ধরনের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রশ্নই ওঠে না। নিজেদের এই কঠোর নীতিগত অবস্থানেই অনড় রয়েছে ইসলামাবাদ। দেশটির একটি উচ্চপদস্থ কূটনৈতিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, ট্রাম্পের এমন কোনো একতরফা দাবি বা শর্ত মেনে নিতে পাকিস্তান কোনোভাবেই বাধ্য নয়।
মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের সাথে মুসলিম দেশগুলোর সম্পর্ক স্থাপনের চুক্তি ‘আব্রাহাম একর্ড’-এ পাকিস্তানের যুক্ত হওয়ার গুঞ্জন নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, নিজেদের মৌলিক আদর্শ এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পরিপন্থী এমন কোনো চুক্তিতে পাকিস্তানের যুক্ত হওয়া একেবারেই উচিত নয়। যাদের কথার বিন্দুমাত্র বিশ্বাসযোগ্যতা নেই, তাদের সাথে এক টেবিলে বসার প্রশ্নই ওঠে না। এ বিষয়ে পাকিস্তানের জাতীয় অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার এবং এমন কোনো চুক্তি তাদের কাছে কখনোই গ্রহণযোগ্য হবে না।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ আন্তর্জাতিক মহলকে মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, পাকিস্তানই বর্তমান বিশ্বের একমাত্র দেশ, যাদের পাসপোর্টে স্পষ্ট করে লেখা রয়েছে যে এটি ইসরায়েল ভ্রমণের জন্য বৈধ নয়। ফলে পাসপোর্টে ইসরায়েলের নাম পর্যন্ত না রাখার এই ঐতিহাসিক ও নীতিগত অবস্থান থেকে পাকিস্তান কোনো অবস্থাতেই বিচ্যুত হবে না। মার্কিন চাপের মুখেও নিজেদের এই স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি ধরে রাখার বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে দেশটি।







