চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ভেল্লাপাড়া ব্রিজ এলাকায় বাস ও যাত্রীবাহী লেগুনার মধ্যে এক ভয়াবহ মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অন্তত দু’জন নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নুরুল আলম আশেক।
কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিনুর আলম জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর পরই স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে ছোটেন। সংঘর্ষের তীব্রতায় লেগুনাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং এতে থাকা অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন যাত্রী আহত হন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ি সূত্র জানায়, সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় ২৫ থেকে ৩০ জনকে উদ্ধার করে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসাধীন যাত্রীদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা মুমূর্ষু হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে চিকিৎসকদের বরাতে আশঙ্কা করছে পুলিশ।
ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া কর্ণফুলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পরিতোষ জানান, রাত পৌনে ১০টা পর্যন্ত দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটি থেকে অন্তত আটজনকে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের নাম-পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে পুলিশ জানায়, কর্ণফুলীর মইজ্জারটেক এলাকা থেকে যাত্রী নিয়ে পটিয়ার দিকে ছেড়ে যাওয়া একটি লেগুনার সঙ্গে কক্সবাজার থেকে আসা চট্টগ্রামগামী ঈগল পরিবহনের একটি দ্রুতগতির বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ঈগল পরিবহনের বাসটি মহাসড়কে অন্য একটি গাড়িকে বেপরোয়াভাবে ওভারটেক করতে গিয়ে সামনে থাকা লেগুনাকে সজোরে ধাক্কা দেয়।
কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহিনুর আলম আরও জানান, দুর্ঘটনার পরপরই মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে দুর্ঘটনাকবলিত ঈগল পরিবহনের বাস ও লেগুনাটি সড়ক থেকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার পরপরই বাস ফেলে চালক ও সহকারী কৌশলে পালিয়ে গেছে। চালককে আটকে পুলিশের অভিযান চলছে এবং এই ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।







