রাজধানীর পুরানা পল্টনে একটি দোকানে ভাঙচুর, চাঁদা দাবি, লুটপাট ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে পল্টন থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. লিটনসহ বেশ কয়েকজন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০–২৫ জনের বিরুদ্ধে পল্টন মডেল থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে মজিরন বেগমের মেয়ে মৌমিতা পল্টন মডেল থানায় এই লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। গত শুক্রবার (২৯ মে) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে পুরানা পল্টন এলাকার ৫৮/২ নম্বর ঠিকানার নিচতলার একটি দোকানে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, অভিযুক্ত মো. লিটন ও তাঁর সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে তারা প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করত এবং চাঁদা না দিলে বাসা ও দোকান থেকে উচ্ছেদের হুমকি দেওয়া হতো। এর ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ শুক্রবার রাতে মো. লিটন ও সিকদারসহ ২০-২৫ জন ব্যক্তি ওই দোকানে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং দোকান থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা, ৬০ হাজার টাকার হাড়ি-পাতিল ও ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের সিগারেট লুট করে নিয়ে যায়। বাধা দিতে গেলে লিটন লোহার হাতুড়ি দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করে ভুক্তভোগীকে আহত করেন এবং যাওয়ার সময় ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি দেন।
এদিকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ পল্টন থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক লিটন হোসাইন তাঁর বিরুদ্ধে আনা দোকান ভাঙচুর, লুটপাট ও চাঁদাবাজির সমস্ত অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, এই অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ঘটনার সময় তিনি ঢাকায় উপস্থিত ছিলেন না উল্লেখ করে তিনি জানান, ঈদুল আজহার দুই দিন আগে তিনি সপরিবারে গ্রামের বাড়ি যান এবং পরবর্তীতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে ঢাকায় এসে প্রোগ্রাম শেষে আবার লক্ষ্মীপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
লিটন হোসাইন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তিগত প্রমাণ যাচাই করার দাবি জানিয়ে বলেন, তদন্তে তাঁর সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে তিনি যেকোনো আইনগত ব্যবস্থা মেনে নেবেন। তিনি পালটা অভিযোগ করে বলেন, অভিযোগকারী নারী অবৈধভাবে সরকারি জায়গা দখল করে আছেন এবং তাঁর ছেলে একসময় পল্টন থানা আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি ছিলেন, যিনি বর্তমানে পলাতক। এর আগে ওই নারীর করা ২০ হাজার টাকার চাঁদাবাজির মামলাটিকেও তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে পল্টন থানার ওসি মোস্তফা কামাল খান জানান, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। তিনি উল্লেখ করেন, এর আগেও মজিরন বেগম একটি মামলা করেছিলেন এবং সেই মামলায় অভিযুক্ত লিটন জেল খেটেছেন; মূলত ওই মামলার শত্রুতার জের ধরেই নতুন করে এই ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগটি নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।







