নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর মুক্তির পর তাঁর বাড়ির সামনে নজরদারি বাড়িয়েছে পুলিশ। সেখানে স্থাপন করা হয়েছে আধুনিক ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরাও। এ ছাড়া সাদা পোশাকে পুলিশের টহলও রয়েছে ওই এলাকায়।
পুলিশ বলছে, তিনবারের সাবেক এই সিটি মেয়রের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কোনো দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেন কি-না, সে বিষয়ে খোঁজখবর রাখতেই এই বাড়তি নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যা ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগে করা ১২টি মামলায় প্রায় ১৩ মাস (৩৯১ দিন) কারাভোগের পর গত বুধবার রাতে মুক্তি পান আইভী। গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে রাত সাড়ে ১২টায় তিনি নারায়ণগঞ্জের দেওভোগে তাঁর পৈতৃক বাড়ি ‘চুনকা কুটিরে’ ফেরেন। ফেরার পথে তিনি কেন্দ্রীয় সিটি কবরস্থানে বাবা, মা ও ভাইয়ের কবর জিয়ারত করেন।
সাবেক এই মেয়রের মুক্তি ও বাড়ি ফেরাকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ শহরের কয়েকটি পয়েন্টসহ তাঁর বাড়ির সামনে রাতভর বিপুল পুলিশ মোতায়েন ছিল। রাতেই পুলিশের তত্ত্বাবধানে আইভীর বাড়ির সামনে ও আশেপাশের সড়কে সিসি ক্যামেরাগুলো স্থাপন করা হয়। জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী জানান, নারায়ণগঞ্জকে অপরাধমুক্ত করতে পুরো জেলায় ২ হাজার সিসি ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এগুলো লাগানো হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তা তারেক আল মেহেদী আরও বলেন, “আইভী জামিনে থাকাবস্থায় তার স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাতে পারবেন কিন্তু নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যানারে কোনো দলীয় কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না। সেক্ষেত্রে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। সার্বিক বিষয়েই আমাদের নজরদারি থাকবে।”
এদিকে আইভীর মুক্তির পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তাঁর আত্মীয় ও ঘনিষ্ঠ জনরা চুনকা কুটিরে আসতে শুরু করেন। তবে প্রশাসনিক চাপ ও নিরাপত্তার কারণে বাড়িতে আসা লোকজনের সংখ্যা সীমিত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে আইভীর পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। এরপরও বিভিন্ন এলাকা থেকে শুভাকাঙ্ক্ষীরা সাবেক এই মেয়রের খোঁজখবর নিতে আসছেন।
উল্লেখ্য, সেলিনা হায়াৎ আইভী ২০০৩ সালে প্রথমবারের মতো নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরে ২০১১ সালে পৌরসভাটি সিটি করপোরেশনে উন্নীত হলে তিনি দেশের প্রথম নারী মেয়র নির্বাচিত হন এবং পরবর্তীতে ২০১৬ ও ২০২২ সালেও বিপুল ভোটে জয় পান। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১৮ অগাস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাঁকে দায়িত্ব থেকে অপসারণ করে।







