বর্তমান সরকারের দেওয়া এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির নির্বাচনী অঙ্গীকার প্রথম তিন মাসে কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী।
সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, বেকারত্ব শুধু একটি অর্থনৈতিক সমস্যা নয়; এটি সামাজিক অস্থিরতা, হতাশা ও অপরাধপ্রবণতার সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। তাই নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি জনগণের কাছে একটি বড় জবাবদিহিতার বিষয়।
গাণিতিক বিশ্লেষণ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান বিএনপি সরকারের অন্যতম বড় অঙ্গীকার ছিল পাঁচ বছরে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। পাঁচ বছর বা ৬০ মাসের এই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, প্রতি মাসে প্রায় ১ লাখ ৬৬ হাজার ৬৬৬ জনের কর্মসংস্থান হওয়ার কথা। সেই হিসেবে সরকারের মেয়াদের প্রথম তিন মাসে প্রায় পাঁচ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়ার কথা ছিল।
এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী প্রশ্ন তোলেন, এই তিন মাসে বাস্তবিক অর্থে কি সেই পরিমাণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে? সরকারি, বেসরকারি ও প্রবাসী কর্মসংস্থান মিলিয়ে কতজন নতুন কাজ পেয়েছেন কিংবা কতজন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে—সরকার কি এ বিষয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে?
তিনি আরও বলেন, এই প্রশ্নগুলো কোনো রাজনৈতিক বিরোধিতা নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের কাছে জনগণের ন্যায্য জবাবদিহিতা চাওয়ার প্রশ্ন। যদি লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী অগ্রগতি হয়ে থাকে, তবে সরকারকে স্বচ্ছভাবে সেই তথ্য প্রকাশ করতে হবে; আর ঘাটতি থাকলে তা পূরণের পরিকল্পনাও জনগণকে জানাতে হবে।
যুবসমাজের ভবিষ্যতের ওপর জোর দিয়ে নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী বলেন, আজকের শিক্ষিত ও দক্ষ যুবক যদি কর্মসংস্থানের সুযোগ না পায়, তবে দেশের উন্নয়নের স্বপ্ন বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে। গণতন্ত্রে সরকারের সাফল্য শুধু ঘোষণায় নয়, ফলাফলে পরিমাপ করা হয়। তাই ‘এক কোটি কর্মসংস্থান’ স্লোগানের প্রথম তিন মাসের অর্জনের স্পষ্ট ও তথ্যভিত্তিক উত্তর পাওয়া জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার।







