বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অন্যতম নীতিনির্ধারক, ফৌজদারি আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বিভিন্ন আলোচিত মামলায় আইনি লড়াই করে প্রশংসিত হলেও, কিছু মামলায় বিবাদী পক্ষে লড়া নিয়ে বিভিন্ন মহলে তাঁর বিরুদ্ধে সমালোচনা চলছে।
এসব সমালোচনা ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে গতকাল রবিবার (৭ জুন) তিনি ‘দ্য ঢাকা ডায়েরি’কে একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। একই সাথে তাঁর প্রতিষ্ঠিত আইনি সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘ল’ ল্যাব’ তাঁর লড়া বেশ কিছু ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ মামলার তালিকা প্রকাশ করেছে。
অ্যাডভোকেট শিশির মনিরের দাবি, আইনি নিয়ম-নীতি সম্পর্কে না জেনে অপপ্রচারকারীরা শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে কিছু মামলার তথ্য ভুলভাবে এবং অতিরঞ্জিত করে উপস্থাপন করছে。 তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে যেসব তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তার অনেকগুলোই মিথ্যা ও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন。
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “অপপ্রচারকারীরা রটনা করেছে যে আমি নাকি আইজিপি মামুন এবং রানা প্লাজার মালিকের আইনজীবী ছিলাম, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আবরার হত্যা মামলায় আমি নিম্ন আদালতে ছিলাম না, হাইকোর্টে মামলাটি আসার পর পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমি নিজে থেকেই সেখান থেকে উইথড্র (প্রত্যাহার) করে নিয়েছি।”
জামায়াতের এই নেতা আক্ষেপ করে প্রশ্ন তোলেন, গুরুত্বপূর্ণ অনেক মামলায় তাঁর অবদান ও সাফল্যের কথা কেন চেপে যাওয়া হচ্ছে? তিনি বলেন, “আমি যে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের মামলা লড়লাম, লুৎফুজ্জামান বাবরের মামলা করলাম, যুদ্ধাপরাধীদের মামলা ও বিনা বিচারে আটকে থাকা মানুষের মুক্তির জন্য লড়লাম—সেগুলো কই গেল?”
ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক এই নেতা আরও উল্লেখ করেন, ২০১০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হওয়া কয়েক হাজার ভুক্তভোগীর পক্ষে তিনি লড়েছেন। এছাড়া ফাঁসি ছাড়াই কনডেম সেলে বন্দি রাখার বিরুদ্ধে রিট, পুলিশের অপরাধ তদন্তে পৃথক সংস্থা গঠন, টেলিফোনে আড়ি পাতার সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসংক্রান্ত সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের মামলার মতো জনগুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের কথা অপপ্রচারকারীরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এড়িয়ে যাচ্ছে。
পেশাগত জীবনে অ্যাডভোকেট শিশির মনির আরও বহু মামলার নেতৃত্ব দিয়েছেন, যার মধ্যে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা, ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা, সংবিধানের ত্রয়োদশ ও পঞ্চদশ সংশোধনী মামলা, ইসলামী ব্যাংক থেকে এস আলমের অর্থ আত্মসাতের মামলা, সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড এবং বহুল আলোচিত জাপানি শিশুদের মামলা অন্যতম।







