২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার বিকল্প বা ছায়া বাজেট প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
প্রস্তাবিত বাজেটের আকার দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১২ দশমিক ১৪ শতাংশ বলে জানিয়েছে দলটি। একই সঙ্গে বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৩২১ কোটি টাকা, যা জিডিপির ২ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘জনমুখী বাজেট প্রস্তাবনা ২০২৬-২০২৭’ শীর্ষক এ বাজেট উপস্থাপন করেন জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম খান মিলন।
অনুষ্ঠানে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এবং ১১ দলীয় জোটের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রস্তাবিত বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছে জনপ্রশাসন খাতে। এ খাতে ২ লাখ ২ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা বা মোট বাজেটের ২৪ দশমিক ০৯ শতাংশ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া ঋণের সুদ পরিশোধে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দের সুপারিশ করা হয়েছে
এ ছাড়া পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে ৬৫ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা, কৃষি খাতে ৫১ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা, সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ খাতে ৪৮ হাজার ১৫০ কোটি টাকা, স্বাস্থ্য খাতে ৪৫ হাজার ২৪০ কোটি টাকা এবং স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতে ৪৫ হাজার ২২০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা খাতে ৪৩ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা, জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা খাতে ৩৪ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ২৪ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের রূপরেখাও তুলে ধরা হয়।
বাজেট উপস্থাপনকালে সাইফুল ইসলাম খান মিলন বলেন, জাতীয় সংসদের বিরোধীদল হিসেবে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জাতির সামনে একটি পূর্ণাঙ্গ বিকল্প বাজেট প্রস্তাব করা হচ্ছে।
তিনি জানান, জামায়াতের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো ২০৪৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার দুই ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা এবং ২০৫০ সালের মধ্যে দেশকে উন্নত রাষ্ট্রের কাতারে নিয়ে যাওয়া। এ লক্ষ্যে সুশাসন, দুর্নীতিদমন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগবান্ধব অর্থনৈতিক পরিবেশ তৈরিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবনায় করজাল সম্প্রসারণ, কর প্রশাসনের অটোমেশন, রাজস্ব খাতে দুর্নীতি হ্রাস, এনবিআর ও দুদকের সংস্কার এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে করের চাপ থেকে সুরক্ষা দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
এছাড়া ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের স্বস্তি দিতে সর্বনিম্ন করযোগ্য আয়সীমা ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব করেছে দলটি। পরবর্তী অর্থবছরে এ সীমা ৫ লাখ টাকায় উন্নীত করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
জামায়াতের মতে, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, মুদ্রাপাচার রোধ এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করা গেলে দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
এই সংস্করণটি সংবাদপত্রে প্রকাশযোগ্য সংক্ষিপ্ত ও পরিমার্জিত প্রতিবেদনের আকারে প্রস্তুত করা হয়েছে।







