ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি অবসানের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার আজ রাতে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় যাচ্ছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনা (IRNA) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগকে এগিয়ে নেওয়া এবং আলোচনায় অংশগ্রহণকারী পক্ষগুলোর মধ্যে একটি সম্ভাব্য সমঝোতা সমন্বয় করা।
এদিকে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হতে যাওয়া এই সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শর্তসমূহ ফাঁস করেছে ইসরাইলি গণমাধ্যম ‘ইসরায়েল হায়োম’। তাদের দাবি অনুযায়ী, চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান তার এতদিনের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অন্য দেশে হস্তান্তর করতে এবং দীর্ঘমেয়াদী ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি ত্যাগ করতে সম্মত হয়েছে।
একই সাথে ইরানকে অবশ্যই ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন এড়িয়ে চলার স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। বিনিময়ে মানবিক প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য কাতারে আটকে থাকা ইরানের ১৫ বিলিয়ন ডলারের জব্দকৃত সম্পদ ছেড়ে দেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
খসড়া শর্ত অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত ‘হরমুজ প্রণালী’ কোনো ধরনের বিধিনিষেধ ছাড়াই সবার জন্য পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে আর কোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ না নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।
তবে এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তির ক্ষেত্রে লেবানন ইস্যুটি এখনো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি বড় অমীমাংসিত প্রশ্ন হিসেবে রয়ে গেছে। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী রোববার (১৪ জুন) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এই ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।







