যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে বসে এক মাস আগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৌতুকধর্মী ছবি ও বার্তা প্রকাশ করতেন অভিজিৎ দীপকে। কিন্তু এখন তিনি ভারতের তরুণদের ক্ষোভের প্রতীক হয়ে উঠেছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ (Cockroach Janta Party) শুরু হয়েছিল নিছক একটি রসিকতা হিসেবে। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই সেটি লাখো মানুষের সমর্থন পেয়ে আলোচিত আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।
ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে মূলত এই দলের জন্ম। বেকার তরুণদের নিয়ে করা সেই মন্তব্যকে অনেকেই অবমাননাকর বলে মনে করেন। তারই প্রতিবাদে দীপকে ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ নামে একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক উদ্যোগ শুরু করেন। দ্রুতই এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং লাখো অনুসারী অর্জন করে।
আন্দোলনটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠার পর সরকারের প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল সেটিকে দমন করার চেষ্টা। দীপকে ধারণা করেছিলেন, গত ৬ জুন দিল্লি বিমানবন্দরে নামার পর তাঁকে গ্রেফতার করা হবে এবং তাঁর পরিকল্পিত সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হবে। কিন্তু বাস্তবে দিল্লি পুলিশ দ্রুত তাঁকে সমাবেশ করার অনুমতি দেয়।
দীর্ঘ বিমানযাত্রার ক্লান্তি নিয়েই ৩০ বছর বয়সী এই যোগাযোগ-পেশাজীবী দিল্লির কেন্দ্রস্থলের একটি বিক্ষোভস্থলে পৌঁছান। দুপুর নাগাদ সেখানে প্রায় এক থেকে দুই হাজার মানুষ জড়ো হন, যাঁদের অধিকাংশই ছিলেন তরুণ। সমাবেশে অংশ নেওয়া অনেক তরুণকেই তখন তেলাপোকার মুখোশ পরে থাকতে দেখা যায়।
সমাবেশে উপস্থিত মানুষজন ঢোল বাজান ও বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরীক্ষায় অনিয়ম ও ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে তাঁরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন। দীপকে দলিত নেতা ভীমরাও রামজি আম্বেদকরের আত্মজীবনী উঁচিয়ে ধরে তাৎক্ষণিক বক্তৃতা দেন। তবে প্রচণ্ড গরমে একপর্যায়ে তিনি অজ্ঞান হয়ে যান।
দীপকের আন্দোলন যে ক্ষোভকে সামনে নিয়ে এসেছে, তা ভারতের বহু তরুণের দীর্ঘদিনের বাস্তবতা। বিক্ষোভকারীদের অনেকেই চাকরির অভাব এবং এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থার সমালোচনা করেন, যা তাদের স্বপ্ন পূরণের বদলে বাধা সৃষ্টি করছে। তাঁদের অভিযোগ, ক্ষমতাসীনরা জবাবদিহির বাইরে থেকে যাচ্ছেন এবং ভিন্নমত দমন করা হচ্ছে।
জয়পুর থেকে আসা নবীন নামের এক বিক্ষোভকারী বলেন, সমস্যা শুধু শিক্ষামন্ত্রী নন, ‘পুরো ব্যবস্থাই’ সমস্যাগ্রস্ত। অন্যদিকে চণ্ডীগড়ের অরবিন্দ সিংয়ের মতে, নতুন এই দল ক্ষুব্ধ কিন্তু ভীত তরুণদের কথা বলার সাহস দিয়েছে। সমাবেশে উপস্থিত জনতা সমস্বরে স্লোগান দেয়, ‘আমরা তেলাপোকা!’
দীপকে এরই মধ্যে ভারতের বিভিন্ন স্থানে আরও সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে এই আন্দোলনের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত। এর কোনো শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো নেই এবং দিল্লির সমাবেশে উপস্থিতির সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে কম ছিল। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, দীপকে কি এই সামাজিক ক্ষোভকে দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ দিতে পারবেন?







