নরসিংদীর মনোহরদীতে এক অনুষ্ঠানে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের নেপথ্য কারণ ও ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। আজ শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে মনোহরদী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে নিজস্ব তহবিল থেকে আর্থিক অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী দাবি করেন, লাইসেন্স টিকিয়ে রাখতে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের মালিকপক্ষ কোটি কোটি টাকা নিয়ে তাঁর পেছনে ঘুরেছেন। তিনি বলেন, “কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে আমার পিছনে। আল্লাহর রহমতে আপনাদের দোয়ায় কোন টাকার প্রতি লোভ হয় নাই আমার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আপনি যা করবেন করেন, আমি আপনাকে পূর্ণ সমর্থন দিয়ে দিব।’ এরপর আমি লাইসেন্স বাতিল করে দিয়েছি।”
হাসপাতালটির চিকিৎসা ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, “জামায়াতের লোকেরা বলে যে এটা নাকি বেইনসাফ হয়েছে। মানে, ও ব্যাটাও জামায়াত করে, মানুষকে ভোগা (ধোকা) দেয়। কয়েকটা টাকা কম নিয়ে ভোগা দিয়া ছয়টা বাচ্চাকে মেরে ফেলেছে।” তিনি উপস্থিত সবার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রাখেন, ফ্যান বন্ধ করে জানালা লাগিয়ে আধা ঘণ্টা আটকে রাখলে কেউ বাঁচবে কি না।
ভয়াবহ সেই ঘটনার বিবরণ দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “একটা বাচ্চা বিনা অক্সিজেনে তিন মিনিট বাঁচতে পারে। আমি নিজে ওই হাসপাতাল ভিজিট করেছি— বন্ধ রুম, কোন জানালা নাই, তার মধ্যে নার্স এসি বন্ধ করে দিয়েছে। সকল বাচ্চা দুই ঘন্টা পরে সমানে কানতেছে যখন কার্বন ডাই অক্সাইড ভাইসা গেছে। মায়েরা জোরে জোরে ডাকলেও একটা নার্স বা ডাক্তার ডিউটিতে আসে নাই।”
তিনি আরও বলেন, “এর মধ্যে একটা বাচ্চাকে উপরে মুক্ত বাতাসে নেওয়ার ১৫ মিনিট পরেই সে ভালো হয়ে যায়। তখনই তো ডাক্তারের চিন্তা করা উচিত ছিল যে বাচ্চাটা ভালো হইলো কেন? অথচ বাচ্চাটাকে আবারও ওই ঘরে নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে ছয়টা বাচ্চা একসাথে মারা যায়।”
লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তে অনড় থাকার ঘোষণা দিয়ে মন্ত্রী প্রশ্ন রাখেন, “তার লাইসেন্স বাতিল করবো নাকি চুমাব ধইরা বলেন তো? ওরা এখন উনার পক্ষে কথা বলুক আর যাই করুক, বাতিল করছি তো করছি। এই একটা পানিশমেন্টে সারা বাংলাদেশের প্রাইভেট হসপিটালগুলি ঠিক হয়ে যাবে। সস্তা কথা বলে যে কম টাকা নেয়, আরে কী কম নেয়? ছয়টা মায়ের বুক খালি হয়েছে।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সতর্ক করে দিয়ে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, “কাজেই এগুলি থেকে আপনাদের সাবধান থাকতে হবে। মানুষের সেবা করতে হবে সত্যিকারভাবে, বিনা স্বার্থে। লোক দেখানো সেবা করলে চলবে না।”







