ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের জেরে কক্সবাজারের ঈদগাঁও থেকে অপহরণের শিকার হওয়া এক নওমুসলিম কলেজছাত্রীকে দীর্ঘ দুই মাস পর পার্বত্য রাঙামাটি জেলার চন্দ্রঘোনা থানাধীন ‘ইস্কন আশ্রম’ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া ওই ছাত্রীর নাম আয়েশা সিদ্দিকা জারা (২২), যার পূর্ব নাম ছিল তন্নী দে রিপন্না। তিনি চট্টগ্রাম হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের দর্শন বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) চন্দ্রঘোনা থানা পুলিশ ভিকটিমকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেয় এবং পরবর্তীতে ঘটনাটি ঈদগাঁও থানা পুলিশকে অবগত করা হয়। এ বিষয়ে ঈদগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এটিএম সিফাতুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে, ছাত্রীকে ফিরিয়ে আনতে পুলিশ দল রাঙামাটির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে।
ইস্কন আশ্রমে আটকে রেখে নির্যাতন ও পাচারের অভিযোগ
ভুক্তভোগী আয়েশা সিদ্দিকা জারা বন্দি অবস্থায় তাঁর কাছে থাকা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মামলার বাদীর কাছে গোপন বার্তা পাঠিয়েছিলেন। সেই বার্তায় তিনি জানান, ধর্মান্তরের জেরে মা-বাবা ও স্বজনরা তাঁকে জোরপূর্বক তুলে এনে এই ইস্কন আশ্রমে আটকে রেখেছে এবং তাঁর ওপর চরম নির্যাতন চালানো হচ্ছে। বার্তাটি পাঠিয়ে উদ্ধারের আকুতি জানানোর পরপরই তাঁর সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা নাঈম ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, রাজস্থলীর বাঙ্গালহালিয়ায় বিশ্ব সনাতন ধর্ম সংঘ নামে যে কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও ইস্কন আশ্রম রয়েছে, সেখানে দেশের বিভিন্ন স্থানের নওমুসলিমদের এনে গোপনে আটকে রাখা হয়। পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে তাঁদের ভারতে পাচার করা হয় বলেও বিভিন্ন মাধ্যমে জানা গেছে। তাই এসব আশ্রমে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি রাখা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিগত দুই-তিন বছর ধরে এই স্থানটিতে নওমুসলিমদের আটকে রেখে নির্যাতন করার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা হলেও প্রশাসন তা আমলে নেয়নি। অনেকে একে গুজব বলে উড়িয়ে দিলেও আজকের এই ঘটনা ও উদ্ধারের পর দিনের আলোর মতো সকল অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলো।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও অপহরণ
জানা গেছে, সনাতনী হিন্দু ধর্মাবলম্বী তন্নী দে রিপন্না কলেজে পড়ার সময় ইসলাম ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে প্রায় এক বছর আগে পরিবারের অজান্তে ধর্ম পরিবর্তন করেন। তিনি কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের হিন্দুপাড়ার বাসিন্দা সনজীত কুমার দে ও তাপসী দে দম্পতির মেয়ে।
পরবর্তীতে গত ১ মার্চ চট্টগ্রামের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে এফিডেভিটের (হলফনামা) মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে আয়েশা সিদ্দিকা জারা নাম ধারণ করেন তিনি। বিষয়টি জানাজানি হলে তাঁর পরিবার ও স্বজনরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং তাঁকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা চালান।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৮ মার্চ জারা চট্টগ্রাম থেকে ঈদগাঁওয়ে এসে বান্ধবীদের সঙ্গে অবস্থান করার পর পুনরায় চট্টগ্রামে ফিরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হন। এ সময় ওত পেতে থাকা তাঁর পিতা-মাতা ও স্বজনরা তাঁকে জোরপূর্বক রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে সরাসরি রাঙামাটির ইস্কন আশ্রমে বন্দি করে রাখে, যা দীর্ঘ দুই মাস পর পুলিশি অভিযানে উদঘাটিত হলো।







