চট্টগ্রামের রাউজানে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরী (৪৫) হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। গত ১৩ জুন বাগোয়ান এলাকায় তাকে কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই-বাছাই করে পুলিশ এই খুনেও পেশাদার অপরাধী দিদারুল আলমের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দিদারুল আলম একজন চিহ্নিত অপরাধী, যার বিরুদ্ধে বাকলিয়া থানায় হত্যা এবং বিভিন্ন থানায় ডাকাতি ও চুরিসহ অন্তত ৯টি মামলা রয়েছে। এর আগে গত বছরের ২২ এপ্রিল রাউজান সদর ইউনিয়নে যুবদল নেতা মো. ইব্রাহিমকে দোকানে ডেকে মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। সেই ইব্রাহিম হত্যা মামলাতেও পুলিশ তদন্ত করে দিদারুলকে গ্রেপ্তার করেছিল। কিন্তু উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়ে দ্রুতই কারামুক্ত হন তিনি।
রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান, যুবদল নেতা ইব্রাহিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর দিদারুল উচ্চ আদালত থেকে ৬ মাসের জামিনে বেরিয়ে আসেন। তারও আগে ২০২৪ সালে একটি চুরির মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জামিন পেয়েছিলেন তিনি। বারবার গ্রেপ্তার হলেও প্রতিবারই দ্রুত সময়ে কারামুক্ত হয়ে তিনি আবার নতুন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন।
এদিকে, ১৩ জুন গুলিতে নিহত মাকসুদুল হক চৌধুরী রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান পিয়ারুল হক চৌধুরীর ছোট ভাই। আগামী ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য তিনি এলাকায় নিয়মিত গণসংযোগ চালাচ্ছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। তিনি রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না করলেও, স্থানীয়ভাবে কর্ণফুলী নদী থেকে বালু উত্তোলন এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের বিরোধের বিষয়টি জোরালোভাবে আলোচনায় আসছে। নিহত মাকসুদুল রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী বাজার-সংলগ্ন চম্পাতলী ঘাট এলাকার একটি বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ করতেন। একই সাথে রাউজানের বাগোয়ান ইউনিয়নের খেলার ঘাট এলাকার আরেকটি বালুমহালও তাঁর নিয়ন্ত্রণে ছিল।
বেতাগী ইউনিয়নের বাসিন্দা মোখলেছুর রহমান জানান, এই খুনের রহস্য উদ্ঘাটনে বালুমহাল সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের বিষয়টি প্রশাসনের অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা উচিত।







