শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার পূরণে এখনো উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী। তিনি বলেন, কেবল বাজেটে বরাদ্দ বাড়ালেই কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন সম্ভব নয়; সময়মতো অর্থ ছাড়, সুষ্ঠু বাস্তবায়ন এবং ব্যয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বুধবার দুপুরে রাজধানীতে গণসাক্ষরতা অভিযান আয়োজিত ‘কেমন হলো শিক্ষা বাজেট: বাস্তবতা ও জনপ্রত্যাশা’ শীর্ষক এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদা কে. চৌধুরী বলেন, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী তা এখনো পর্যাপ্ত নয়। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা খাতে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বরাদ্দের দাবি জানানো হলেও বাস্তবে সেই লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। ফলে শিক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার মান বৃদ্ধি এবং বৈষম্য দূরীকরণে চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার একদিকে শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির কথা বলছে, অন্যদিকে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ওপর পরীক্ষার ফি আরোপের চিন্তা করছে। এটি অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তার মতে, শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করলে দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারের শিশুদের শিক্ষাগ্রহণে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গণসাক্ষরতা অভিযানের উপপরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি শিক্ষা বাজেটের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে বরাদ্দের বাস্তবতা, খাতভিত্তিক অগ্রাধিকার এবং জনসাধারণের প্রত্যাশার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও বক্তব্য দেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব স্ট্যাটিস্টিক্যাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিংয়ের অধ্যাপক ড. সৈয়দ শাহাদত হোসেন এবং ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইমরান মতিন।
বক্তারা শিক্ষা খাতে বরাদ্দের কার্যকারিতা বৃদ্ধি, শিক্ষার মানোন্নয়ন, অর্থ ব্যবস্থাপনায় সুশাসন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে তারা শিক্ষা খাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও টেকসই বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।







