জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে স্পিকারের চেয়ার বা সভাপতির প্রতি মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান প্রদর্শনের আর কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই বলে রুলিং দিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে স্পিকার এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত জানান। তিনি বলেন, সংসদ সদস্যরা এখন থেকে নিজ নিজ ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী স্পিকার বা সভাপতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবেন।
এর আগে রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান এবং নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক পয়েন্ট অব অর্ডারে বিষয়টি উত্থাপন করেন। তাঁরা জানতে চান, সংসদে প্রবেশের সময় মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান জানানোর রীতি কার্যপ্রণালি বিধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না।
স্পিকার কার্যপ্রণালি বিধি পর্যালোচনা করে জানান, বিধির ২৬৭ (১) উপবিধিতে সংসদে প্রবেশ বা বের হওয়ার সময় সভাপতির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের কথা বলা হয়েছে, তবে মাথা ঝুঁকিয়ে তা করার বাধ্যবাধকতা নেই।
তিনি আরও জানান, ২০০৬ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালি বিধি সংশোধনের মাধ্যমে ২৬৭ (১) বিধি থেকে ‘ঝুঁকিয়া’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়।
স্পিকারের ভাষ্য অনুযায়ী, যেহেতু ‘ঝুঁকিয়া’ শব্দটি বিধি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাই সদস্যরা তাঁদের ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত রীতি অনুযায়ী সম্মান প্রদর্শন করতে পারবেন।
এর আগে মঙ্গলবার সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান দাবি করেন, মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান প্রদর্শনের রীতি ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং শিরকের কাছাকাছি।
তিনি বলেন, সালাম বিনিময়ই যথেষ্ট। অতিরিক্তভাবে মাথা নত করার প্রয়োজন নেই এবং কার্যপ্রণালি বিধির সংশোধনী সবার অনুসরণ করা উচিত।
মুজিবুর রহমান স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারসহ অনেক সদস্য এখনও পুরোনো রীতি অনুসরণ করছেন বলেও মন্তব্য করেন।
তাঁর বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে সংসদে আলোচনা শুরু হয়। পরে কার্যপ্রণালি বিধি পর্যালোচনা করে স্পিকার চূড়ান্ত রুলিং দেন।
স্পিকারের এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সংসদে সম্মান প্রদর্শনের বিষয়ে দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতির পরিবর্তে ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়টি গুরুত্ব পেল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।







