আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিচারপ্রক্রিয়া বিলম্বিত করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, শতাধিক গুম ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলার বিচার কার্যক্রমকে দীর্ঘায়িত করতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছেন।
সোমবার (২২ জুন) দুপুরে নিজ কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে চিফ প্রসিকিউটর এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জিয়াউল আহসানের পক্ষে আইনজীবী প্যানেলে রয়েছেন তারই বোন অ্যাডভোকেট নাজনীন নাহার। তিনি প্রায় প্রতিটি শুনানির দিনই কোনো না কোনো অজুহাতে সময়ক্ষেপণের চেষ্টা করছেন। কখনো আইনজীবীর অসুস্থতা, কখনো মৃত্যুর ঘটনা, আবার কখনো মামলার বিভিন্ন নথিপত্র চেয়ে আবেদন করে বিচারকার্য বিলম্বিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আমিনুল ইসলাম বলেন, রোববার ট্রাইব্যুনালে মামলার একজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। ওই সাক্ষীকে জেরা করার জন্য সোমবার দিন ধার্য ছিল। কিন্তু শুনানি শুরুর আগেই আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তিন থেকে চারটি পৃথক আবেদন জমা দেন। এর মধ্যে কেবল আসামির সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদনকে তারা যৌক্তিক হিসেবে মেনে নিয়েছেন, কারণ এটি একজন আইনজীবীর সাংবিধানিক ও আইনগত অধিকার। ট্রাইব্যুনালও এ বিষয়ে অনুমতি দিয়েছেন। তবে বাকি আবেদনগুলোকে তিনি অপ্রাসঙ্গিক এবং বিচারপ্রক্রিয়া বিলম্বিত করার প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন।
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, আসামিপক্ষ নিয়মিতভাবে বিভিন্ন আবেদনের মাধ্যমে সময় চেয়ে যাচ্ছে, যা বিচার কার্যক্রমকে ধীরগতির করার একটি সুস্পষ্ট কৌশল। তিনি মন্তব্য করেন, বিচারপ্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করার এমন প্রবণতা কোনোভাবেই ইতিবাচক নয় এবং এটি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে যদি জিয়াউল আহসান কিংবা তার আইনজীবীরা অসৎ উদ্দেশ্যে কিংবা বিচার বিলম্বিত করার লক্ষ্যে নতুন কোনো আবেদন করেন, তাহলে প্রসিকিউশন আরও কঠোর অবস্থান নেবে। ট্রাইব্যুনালে এসব আবেদনের বিরুদ্ধে শক্তভাবে আপত্তি জানানো হবে এবং বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সব আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সংঘটিত বলে অভিযোগ থাকা শতাধিক গুম ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছেন মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান। মামলাটিকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে।







