পুরান ঢাকার ধোলাইখাল জলাধার সংস্কার প্রকল্পের আওতায় নির্মিত একটি পাবলিক টয়লেট দখল করে দলীয় কার্যালয় বানানোর অভিযোগ উঠেছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের বিরুদ্ধে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ২২ কোটি ৮৬ লাখ টাকার এই প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
বিগত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই ওই টয়লেটটিতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রধান কার্যালয়ের ব্যানার ঝুলছে। প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ ব্যাপারে লিখিতভাবে ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষকে জানালেও এখন পর্যন্ত দখলমুক্ত করার কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক রাজিব খাদেমের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি গণমাধ্যমের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে সূত্রাপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক হাজী মোহাম্মদ নাজিম বলেন, “এটা আগে স্বেচ্ছাসেবক লীগের ক্লাব ছিল। সেখানে তারা নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করত, মাদক বিক্রি করত। আমাদের কোনো বসার জায়গা ছিল না, তাই মূল দলের পরামর্শে আপাতত আমরা এখানে বসছি।”
ধোলাইখাল জলাধারকে বলা হয় পুরান ঢাকার ফুসফুস। দীর্ঘদিন ময়লার ভাগাড় হয়ে থাকা এই জলাধারটিকে ২০২৩ সালে ডিএসসিসির তৎকালীন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস হাতিরঝিলের চেয়েও দৃষ্টিনন্দন করার ঘোষণা দেন। ‘ঢাকা সিটি নেইবারহুড আপগ্রেডিং প্রজেক্ট’-এর আওতায় এখানে সুপ্রশস্ত হাঁটার পথ (ওয়াকওয়ে), সাইকেল লেন, সবুজায়ন, উন্মুক্ত মঞ্চ, ঝরনা, শিশুদের খেলার জায়গা এবং ফুডকোর্টের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে চারু এন্টারপ্রাইজ ও মাসুদ হাইটেক এন্টারপ্রাইজ যৌথভাবে। গত এপ্রিল পর্যন্ত কাগজে-কলমে প্রকল্পের ৮১ দশমিক ৫৫ শতাংশ অগ্রগতি দেখিয়ে ঠিকাদারকে দুই দফায় ১৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা বিল পরিশোধ করা হয়। কিন্তু কাজের একটি বড় অংশ বাকি রেখেই গত ৩১ মে প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। উপরন্তু, প্রকল্পের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘ডিএসএম কনসাল্টিং ফার্ম’ নকশায় ভুল করায় সিটি করপোরেশনকে আরও ৬ কোটি টাকার নতুন একটি প্যাকেজ নিতে হয়েছে, যার কাজ এখনো শুরুই হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, জলাধার ঘিরে তিন দিকের দেয়ালের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। প্রধান ফটকের কাজ অর্ধেক বাকি এবং ৬০০ মিটার সড়কের কাজও অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। ২০টি দর্শনার্থী বেঞ্চ এবং সবুজায়নের কাজে হাতই দেওয়া হয়নি। প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত দুটি টয়লেটের মধ্যে মাত্র একটির কাজ শেষ হয়েছে।
অন্য দিকে, দক্ষিণ-পশ্চিম দিকের টয়লেটের অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হলেও ফিনিশিংয়ের কাজ আটকে আছে। ওই টয়লেটের বাইরে ঝুলছে ৪৪ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. সুমন হোসেন ও সদস্য সচিব মো. পায়েলের ছবি সংবলিত দুটি ব্যানার। ভেতরে রয়েছে ঢাকা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনের নির্বাচনকালীন ব্যানার।
প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চারু এন্টারপ্রাইজের সাইট ইঞ্জিনিয়ার মেহেদী হাসান বলেন, “জলাধারের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশের টয়লেটটির অবকাঠামোর কাজ শেষ হলেও আমরা ফিনিশিং দিতে পারছি না। ৫ আগস্টের পর থেকেই সেখানে স্বেচ্ছাসেবক দলের কার্যালয়ের ব্যানার টানিয়ে তা ব্যবহার করা হচ্ছে। আমরা সিটি করপোরেশনকে লিখিতভাবে জানিয়েছি, যেন টয়লেটের দখল উচ্ছেদ করে আমাদের কাজ শেষ করার সুযোগ দেওয়া হয়।”







