রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ জিয়াউর রহমান হলের একটি কক্ষে ‘নারী নিয়ে রাত্রি যাপনের’ গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে আবাসিকতা বাতিল হওয়া হল সংসদের দুই নেতার বিরুদ্ধে এখনো হলে অবস্থানের অভিযোগ উঠেছে। ছাত্রদলের রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় তারা এখনো বহাল তবিয়তে হলে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
অনাকাঙ্ক্ষিত ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এর আগে জিয়াউর রহমান হল সংসদের এজিএস ইসরাফিল হোসাইন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাকিব জুবায়ের এবং হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ফোরকান হাফিজ জীমের আবাসিকতা ও সিট বাতিল করেন হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মাহবুবার রহমান। তবে, এই প্রাতিষ্ঠানিক শাস্তির পরও এজিএস ও সাংস্কৃতিক সম্পাদককে হল থেকে বের করা সম্ভব হয়নি।
আবাসিকতা স্থগিত হওয়ার পরও অবৈধভাবে হলে অবস্থানের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত হল সংসদের এজিএস ইসরাফিল হোসাইন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, ‘আপনি হল প্রশাসনকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করেন। এটি আমার জানার বিষয় নয়।’ এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য অভিযুক্ত সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাকিব জুবায়েরকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
হল সংসদের ভিপি মোজাম্মেল হক ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, ‘গত ১১ এপ্রিল জিয়াউর রহমান হলে যে ঘটনাটি ঘটে, তার পরিপ্রেক্ষিতে প্রভোস্ট স্যার বারবার মিটিং করার পরও সেখানে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়। পরবর্তীতে হল প্রশাসনের সিদ্ধান্তে এজিএস ও সাংস্কৃতিক সম্পাদকের আবাসিকতা সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়। তখন প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টি মীমাংসার কথা বললেও, এখন পর্যন্ত কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি।’
তিনি আরও দাবি করেন, ‘তদন্ত কমিটির বিষয়ে আমরা হল প্রভোস্টের সাথে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করেছি। তিনি আমাদের জানিয়েছেন যে বিষয়টি তিনি নিজে সমাধান করতে পারবেন না, উপাচার্য (ভিসি) স্যারই এর চূড়ান্ত সমাধান দেবেন। তবে বর্তমানে হল সংসদের ওই দুজন নেতা হল প্রভোস্টের মৌখিক অনুমতি নিয়েই হলে অবস্থান করছেন।’
তবে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মাহবুবার রহমান অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘আবাসিকতা বাতিলের পরেও যদি তারা নিজেদের রুমে অবস্থান করে থাকে, তাহলে সেটি সম্পূর্ণ অবৈধ। তবে অফিসিয়ালি তাদের পুনরায় কোনো রুম বরাদ্দ বা অ্যালটমেন্ট দেওয়া হয়নি। যদি তারা অবৈধভাবে অন্য কারও রুমে অবস্থান করে থাকে, তবে সেই বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’







