যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলায় এক বিএনপি কর্মী ও মাদ্রাসা শিক্ষকের ১৫ বছর বয়সী নাবালিকা মেয়েকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে বন্দবিলা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি বর্ষণ হোসেনের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে স্থানীয় খাজুরা বাজারে এই ঘটনা ঘটে। তবে অভিযুক্ত ছাত্রদল সভাপতির পরিবারের দাবি, প্রেমের সম্পর্কের জেরে তারা স্বেচ্ছায় পালিয়েছে।
ভুক্তভোগী মেয়েটি এ বছর স্থানীয় একটি স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। তার বাবা একজন স্থানীয় বিএনপি কর্মী এবং খাজুরা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। তাদের বাড়ি খাজুরা বাজার সংলগ্ন মথুরাপুর গ্রামে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতি বর্ষণ হোসেন পার্শ্ববর্তী ধান্যপুড়া গ্রামের ৬ নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য আলাউদ্দিন মেম্বারের ছেলে।
কিশোরীর বাবা অভিযোগ করে বলেন, তার মেয়েকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ছেলেপক্ষ এখন ঘটনাটি আপস-মীমাংসা করার চেষ্টা করছে। তবে মেয়ে অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তিনি এই মুহূর্তে বিয়ে দিতে রাজি নন। তিনি আরও জানান, ঘটনার পর তারা পুলিশের দ্বারস্থ হলে ছেলেপক্ষ দ্রুত সময়ের মধ্যে মেয়েকে ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। কিন্তু শিক্ষকতা ও সামাজিক সম্মানের হানি ঘটলে তিনি পরবর্তীকালে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেবেন।
এদিকে ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতি বর্ষণ হোসেনের ভাই বখতিয়ার উদ্দিন দাবি করেছেন, তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক থাকায় তারা দুই পরিবারের অগোচরে পালিয়ে গেছে। বর্তমানে দুই পরিবার বিষয়টি সমাধানের জন্য আলোচনায় বসেছে এবং ছাত্রদল সভাপতি ও ওই কিশোরী বাড়ি ফিরে এসেছে বলেও তিনি দাবি করেন। তবে স্থানীয় সূত্রে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাড়ি ফিরে আসার দাবিটি সঠিক নয়।
বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজালাল আলম জানান, এই ঘটনার বিষয়ে থানায় এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বা লিখিত অভিযোগ আসেনি। তবে ঘটনাস্থলের নিকটবর্তী পুলিশ ফাঁড়িতে কোনো পক্ষ যোগাযোগ করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।







